এই সময়: বাংলায় বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নির্বাচনী দামামা বাজিয়ে দিল গেরুয়া ব্রিগেড। শনিবার রাজ্যের চার জায়গায় শুরু হয়েছে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’।
কোচবিহারে এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের দাবি, ‘বাংলা থেকে তৃণমূল সরকার চলে যাচ্ছে। আগামী ৪ তারিখ আমরা একবার হোলি উদ্যাপন করব, আর ভোটের রেজ়াল্ট বেরোনোর পরে জয়ের হোলি খেলব।’ পাল্টা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘বিজেপি অনেক আবির কিনে রেখেছে। তবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না। ওরা হোলিটা বরং আগেই খেলে নিক। আমরা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে খেলব।’ এ বারের নির্বাচনে বাংলায় যে পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই, উল্টে প্রত্যাবর্তনই নিশ্চিত, তা বোঝাতে অভিষেকের সংযোজন, ‘গেরুয়া আবিরের চাহিদা বেশি, না সবুজ আবিরের, সেটা বাজারে গিয়ে খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে।’
শেষ হাসি কারা হাসবে, ফলপ্রকাশের পরে কোন রঙের আবিরের বিক্রি বাড়বে, তা জানতে আর মাস দুয়েকের অপেক্ষা। তার আগে, ‘অনুপ্রবেশ’ এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ‘সার’ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাই যে প্রচারের অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই। অনুপ্রবেশ অস্ত্রকেই আরও ধারালো করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। উল্টোদিকে তৃণমূল প্রমাণ করতে চাইছে, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের নামে তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠের সভা থেকে নীতিন নবীন বলেন, ‘বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে হবে। সীমান্তে কাঁটাতার লাগাতে জমি দেয় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আর কেউ সংখ্যালঘু তোষণের জন্য জমি চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেড কার্পেট বিছিয়ে দেয়!’ তাঁর অভিযোগ, ‘দিদি, আপনি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন। ৫০ লক্ষের বেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ৫০ লক্ষ মানুষ এত বছর কাদের হকের রেশন খাচ্ছিল?’ নবীনের দাবি, ‘আরও অনেক অনুপ্রবেশকারী বাংলায় আছে। তাদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করতে হবে। শুধু বিজেপি–ই এই কাজ করতে পারবে।’
অনেকটা একই সুরে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের আক্রমণ, ‘পশ্চিমবঙ্গ কাদের রাজ্য, বাঙালিদের নাকি রোহিঙ্গাদের? ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের নাম ঢোকাতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করেছে। বাংলাদেশিদের নাম তালিকা থেকে কাটা হচ্ছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে ছুটেছিলেন।’ নদিয়ায় পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে কাঁটাতার দিতে চায়, কিন্তু মমতা জমি দিচ্ছেন না।’
বিজেপির এই অনুপ্রবেশ অস্ত্র ভোঁতা করতে অভিষেকের পাল্টা — ‘বিজেপি যত খুশি এসআইআর করুক। আমার চ্যালেঞ্জ রইল, বাংলায় বিজেপির আসন আরও কমবে।’