• অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন!
    এই সময় | ০২ মার্চ ২০২৬
  • শুভাশিস সৈয়দ, ভগবানগোলা

    কার্গিল যুদ্ধের সময়ে রাজস্থানের সীমান্ত এলাকা বারমের ও পরে বিকানির এলাকায় সেনাকর্মী হিসেবে ছিলেন। ২৮ বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেবা করার পরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই! তিনি মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা বিধানসভার ৫৫ নম্বর বুথের ভোটার মহম্মদ আদিলুজ্জামান।

    শনিবার কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে 'অ্যাজুডিকেশন' অর্থাৎ বিচারাধীন বলে উল্লেখ রয়েছে। মোবাইলে ভোটার তালিকা দেখার পরে প্রাক্তন সেনাকর্মী ক্ষোভ-দুঃখ-হতাশার পাশাপাশি উদ্বেগপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, '২৮ বছর ভারতীয় সেনায় সেবা করার পরে আমার ক্ষেত্রে যদি এই আচরণ করা হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কী দুর্গতি হচ্ছে, তা অনুমান করা সহজ।'

    ১৯৮৩–তে জুনিয়র কমিশনড অফিসার হিসেবে ইএমই (ইলেকট্রনিক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) বিভাগে ভোপালে যোগ দেন। এর পরে ভূজ, এলাহাবাদ, শ্রীনগর, বারমের, বিকানির–সহ কর্মসূত্রে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁকে যেতে হয়েছে।

    তাঁর কথায়, 'দেশসেবা করতে গিয়ে কখনও ভোট দেওয়া হয়নি। ২০১১–য় অবসর নেওয়ার পরে মুর্শিদাবাদে ফিরে ভোট দিয়েছি।' গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি ভোট প্রয়োগ করেন। কিন্তু ২০০০–এর আগে তাঁর বাবা-মা মারা যান। আর ২০০২–এর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না–থাকায় এনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়ে আত্মীয় হিসেবে তিনি তাঁর এক দাদার নাম লিখেছিলেন। ফলে তাঁর নামে নোটিস এসেছিল। প্রাক্তন সেনাকর্মী জানান, নোটিস পেয়ে তিনি সমস্ত নথি নিয়ে দেখাও করেন। তিনি যে সেনাবাহিনী থেকে নিয়মিত পেনশন পান, সেই পিপিও নম্বর দেওয়া নথি ভগবানগোলা-১ এর বিডিও দেখতে চান। তিনি তা দেখানোর পরে সন্তোষপ্রকাশ করেন বিডিও। তিনিও নিশ্চিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁর নামের পাশে অ্যাজুডিকেশন দেখে কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    আদিলুজ্জামান বলেন, 'দেশের জন্য এতটা বছর ত্যাগ স্বীকার করার পরেও যদি কোনও সম্মান নির্বাচন কমিশন না দেয়, তা হলে সেই নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে! সাধারণ মানুষও কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে ভীষণই বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ।'

  • Link to this news (এই সময়)