এই সময়, দুর্গাপুর: বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক জমি দখলের লড়াইয়ের জেরে শনিবার আত্মহত্যা করেছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের বেলডাঙা গ্রামের হুচুকপাড়ার বাসিন্দা সুন্দরা সূত্রধর। মর্মান্তিক সেই ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পরেও থামল না রাজনৈতিক তরজা! অভিযোগ, ওই মহিলার পরিবারের পাশে থাকার কথা মুখে বলা হলেও আসলে তৃণমূল এবং বিজেপি একে অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতেই ব্যস্ত!
নিরাপত্তার কথা ভেবেই প্রতিবেশীরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করছেন না। কিন্তু তাঁদের নীরব, থমথমে মুখের দিকে তাকালেই মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রশ্নটা খুব সহজেই বোঝা যায়। ৩৫ বছরের সুন্দরার এ ভাবে আত্মঘাতী হওয়ার জন্য কারা দায়ী? তার চেয়েও বড় বিষয়, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের তো দূরের কথা, দেহের ময়নাতদন্তের জন্যও দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে। রবিবার দুপুরের দিকে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে।
মহিলার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা জানাজানি হতেই শনিবার তাঁর বাড়ির সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। পুলিশ দুই দলের কর্মীদের সরিয়ে দিলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েই গিয়েছে।
বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা পোস্ট করে লিখেছেন, 'ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা করলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এমন তথ্য–প্রমাণ প্রকাশ্যে নিয়ে আসব যে, ঘর থেকে বের হতে পারবে না। কার জন্য এই ঘটনা, তার তথ্য–প্রমাণ প্রকাশ্যে নিয়ে আসব।'
পাল্টা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ বলেন, 'সুন্দরার পরিবারের পাশে আছি। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মানসিক চাপে এক মহিলা আত্মহত্যা করছেন। এখন রাজনীতির সময় নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।' মৃতের স্বামী সুশান্ত সূত্রধর কাজ করেন বেঙ্গালুরুতে। এই মর্মান্তিক খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরছেন।