• বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনে নয়া প্রোফর্মা, SOP তৈরি করছে CEO দপ্তর
    এই সময় | ০২ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় ‘সার’–এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে যে প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ গেল, তাঁদের কী হবে— এই একটা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে অনেকের মধ্যেই। তাঁরা কি আগামী দিনে আবার ভোটাধিকার ফেরত পেতে পারেন? তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও কি প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল? তাঁরা কি সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন?নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, তাঁদের কাজ ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নয়। তবে শুধুমাত্র বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় থাকে, তা নিশ্চিত করা। তাই এ বার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল মানেই তাঁরা বে–নাগরিক হয়ে গেলেন এমনটা নয়। এটা কমিশন ঠিকও করে না। ফলে যাঁরা যে সব সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতেন, সে সব এখনই বাতিল বা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরাও।

    কিন্তু বাদ পড়া ভোটারদের নাম কি আবার ওঠার সম্ভাবনা আছে ভোটার লিস্টে?

    এই ভোটাররা যাতে ফের নাম তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারেন, তা চূড়ান্ত করতে একটি প্রোফর্মা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। বাদ পড়া ভোটারদের নাম তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফর্ম্যাট বা প্রোফর্মা তৈরি করে দেওয়া হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ভোটার তাঁর নাম, বিস্তারিত তথ্য ফিলআপ করবেন। ‘সার’–এর হিয়ারিংয়ের নোটিস তাঁরা পেয়েছিলেন কি না, শুনানিতে তাঁরা কী কী নথি জমা দিয়েছিলেন, সেটাও উল্লেখ করতে হবে ওই ভোটারকে। সেই আবেদন পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (ডিইও) তা খতিয়ে দেখবেন।

    ডিইও–রা তা খতিয়ে দেখে ফের সেই ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকবেন। কোনও ভোটার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানালে কতদিনের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করতে হবে, সেই সংক্রান্ত সময়সীমা ও গাইডলাইনও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আজ, সোমবারের মধ্যেই জেলাশাসকদের কাছে সেই গাইডলাইন পৌঁছে যাবে বলে সূত্রের খবর। তারপরেই বাদ পড়া আগ্রহী ভোটাররা নির্দিষ্ট ফর্ম্যাট মেনে নাম জমা দেওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। ডিইও–রা সেই আবেদন খারিজ করলে ওই ভোটার আবার সিইও–র কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে আসন্ন বিধানসভা ভোটের মধ্যে এই ভোটারদের কতজন আবেদন করবেন এবং কতজনের নথি পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, তা স্পষ্ট নয়।

  • Link to this news (এই সময়)