এই সময়, মালদা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) প্রকাশ হতেই মালদায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সুজাপুর কেন্দ্রে সবথেকে কম সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। একসময়ে গনি খানের খাসতালুক সুজাপুরে মাত্র ৬৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আবার বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে সব থেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে। যার সংখ্যা ৫ হাজার ২৬৩। নাম বাদ যাওয়া অনেকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।
মালদায় বিচারাধীন রয়েছেন ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে ১৮ হাজার ২৮২ জন ভোটার। এই অবস্থায় রবিবার সকাল থেকেই পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন বিএলওরা (Blo)। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে অনেক বিএলওকে এলাকায় দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। ইংরেজবাজার বিধানসভার বাতিল হওয়া ভোটার সীমা সিং, সীমা পাহাড়ি, বাসন্তী মণ্ডলরা যদুপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার। এই পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ভোটার প্রায় ১৪ হাজার।
তার মধ্যে বিচারাধীন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ভোটার। বাতিল হয়েছে প্রায় ১৫০ জন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া সীমা পাহাড়ি বলেন, ‘আমি এবং আমার স্বামী শুনানির নোটিস পেয়েছিলাম। নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে কিছুদিন আগে স্বামীর মৃত্যু হয়। এখন দেখছি, চূড়ান্ত তালিকায় আমারও নাম নেই। আমারও আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’ আত্মহত্যার হুমকি দেন নাম বাদ যাওয়া সীমা সিংও।
বিচারাধীন তালিকায় থাকা সেলিম মালেক, বাবুল হোসেন, মহম্মদ শাহআলম বলেন, ‘সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলাম। তারপরেও আমাদের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। সামনে ইদ উৎসব। নাম না উঠলে সেই উৎসবে কী ভাবে সামিল হব?’ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে বিএলওদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। বিজেপির (Bjp) জেল সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাস বলেন, ‘তৃণমূলের পক্ষ থেকে সার নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছিল তা যে কতটা বিভ্রান্তিকর, মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলীরা রাজনীতির স্বার্থে একটি সম্প্রদায়কে উস্কানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল, সেটা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।’ তৃণমূলের (TMC) জেলার মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, ‘কী ভাবে মানুষকে হয়রানি করা যায়, তা কেন্দ্রের বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে চলা নির্বাচন কমিশনকে দেখে শেখা উচিত। লক্ষাধিক ভোটারকে বিচারাধীন হিসাবে রাখা হলো। যোগ্যদের অনেকেই বাদ পড়ল। এটা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না।’