এই সময়: ‘এটা কামান, মানে ওয়াটার ক্যানন। পাঁচ লিটার রঙ ধরবে’, তথাকথিত ‘কামান’টার সঙ্গে আটকানো পাঁচ লিটারের ট্যাঙ্কারটার দিকে দেখিয়ে বললেন মনোজ পাসোয়ান। সামনে দোল, তাই জানবাজারের ফুটপাথে তাঁর কাপড়ের দোকানটা আপাতত কিছুদিনের জন্যে নানা ধরনের পিচকিরি, রঙ এবং আবিরের দোকানে রূপান্তরিত হয়েছে। এ বছর কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলি এলাকা দোলের জন্যে কেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, জানবাজারের দোকানগুলিই তার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।
দোল মানে যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধ বন্ধুদের রঙ মাখিয়ে ভূত করে দেওয়ার। আর ব্যাপারটা যখন ‘যুদ্ধ’, তখন তার উপযুক্ত ‘অস্ত্র’ তো অবশ্যই দরকার। এই মানসিকতা বুঝে ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর আগে থেকেই নানা ভাবে পিচকিরির রূপান্তর ঘটিয়ে চলেছেন। প্রথাগত পিচকিরির পাশাপাশি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রর মতো দেখতে এবং ব্যাটারি–চালিত পিচকিরি বাজার দখল করেছে। জলকামান বা ‘ওয়াটার ক্যানন’ এবং নানা ধরনের ‘ওয়াটার গান’ই তার প্রমাণ। তবে সেই অস্ত্রভাণ্ডারে এ বারের সংযোজন ‘লেজ়ার স্নাইপার গান’। ১৮০০ টাকা মূল্যের এই পিচকিরির বৈশিষ্ট্য হলো, এতে নলের নীচে একটি লেজ়ার পয়েন্টার রয়েছে। পিচকিরির ছোড়া রঙ কোন জায়গায় লাগতে চলেছে, সেটা বোঝা যাবে আগে থেকেই।
অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রর মোকাবিলায় বাজারে রয়েছে ‘পৌরাণিক অস্ত্র’ও। এই তালিকায় রয়েছে ‘ছোটা ভীমের গদা’, ‘পরশুরামের কুঠার’ এবং ‘শিবের ত্রিশূল’। দেখতে পৌরাণিক অস্ত্রের মতো হলেও এগুলি সবই বিভিন্ন ধরনের পিচকিরি। দাম আয়তন অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এগুলি ছাড়াও গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও কলকাতার বাজারে রয়েছে ‘কালার সিলিন্ডার’ এবং ‘কালার শটস’। বিভিন্ন রংয়ের ফোয়ারা বার হতে থাকা এই ধরনের সিলিন্ডারের দাম আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। তবে এগুলিতে নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেই। এক বার রংয়ের ফোয়ারা চালু হলে সেটা চলতেই থাকবে রঙ না ফুরোনো পর্যন্ত।
দোলের স্পেশাল মুখোশের পাশাপাশি এ বার বাজারে এসেছে রাজস্থানি স্টাইলের পাগড়ি। আগে থেকেই পিন বসিয়ে তৈরি এই ধরনের রেডিমেড পাগড়ির জনপ্রিয়তা খুব। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আবিরের ক্ষেত্রে লাল ও সবুজ রংয়ের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি থাকলেও গেরুয়া, হলুদ এবং নীল আবিরের চাহিদাও কম নয়। সাদা, তুঁতে রঙ বা গোলাপির মতো অপ্রচলিত রংয়ের আবিরেরও জনপ্রিয়তা বাড়ছে কলকাতার বাজারে।