বিশ্বের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলির অন্যতম ইরান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অয়েল রিজ়ার্ভ হয়েছে ইরানে। শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ২৪ শতাংশ তেল রয়েছে এই দেশে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেই প্রবল চাপ তৈরি হয় সেই দেশগুলির উপর, বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে তেল আমদানি করে। ওই তালিকায় রয়েছে ভারতও।
তথ্য বলছে ভারতে যা তেলের প্রয়োজন, তার মাত্র ১৫-১৮ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি আমদানির উপর নির্ভরশীল। দেশে তেলের দাম যাতে মোটের উপর স্থিতিশীল থাকে তার জন্য কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজ়ার্ভ (Strategic Petroleum Reserve) বা SRP রয়েছে ভারতের। শক্তিক্ষেত্রে ডামাডোল এড়াতে (Energy Security) ভারত তেলের মজুত বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে বহুদিন ধরেই। সেই লক্ষ্যেই SRP পরিকাঠামো বাড়ানোর কাজ হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক (MoPNG), পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং ও অ্যানালাইসিস সেল (PPAC) ও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA)-এর তথ্য বলছে ভারতে SRP-এর হাতে যা ৯.৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু ও পাদুরে SRP রয়েছে। আপাতত সেখানেই তেল মজুত রয়েছে। এই তিনটি জায়গায় মাটির নীচে রক ক্যাভার্নে (Underground rock caverns) মজুত রয়েছে জ্বালানি। মানুষের তৈরি অথবা প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয় এই ক্যাভার্ন। মাটির অনেকটা নীচে গ্রানাইট বা চুনাপাথরের তৈরি এই ভাণ্ডার। একাধিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে এলপিজি বা খনিজ তেল রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও ওডিশা এবং কর্নাটকের আরও একটি জায়গায় SRP তৈরির কাজ চলছে। তাছাড়া রাজস্থানে একটি জায়গায় Salt Cavern তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের এবং গুজরাটের একটি জায়গাও।
ভারতে তেলের মজুতের পরিমাণ শুধুমাত্র SRP-র উপর নির্ভর করে না। তার সঙ্গে অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির হাতে কত মজুত রয়েছে, সেটাও বিবেচনা করা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর রিজ়ার্ভ রয়েছে। তবে অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির রিজ়ার্ভ ওঠানামা করে থাকে। SRP-এর মতো ফিক্সড নয় এগুলি। অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং পরিশোধনের সাইকেলের উপর নির্ভর করে মজুতের ভাণ্ডার।
এছাড়াও ফ্লোটিং রিজ়ার্ভেও তেল রাখা হয়। ভারতও তেলের আমদানি এবং বিদেশি ট্যাঙ্কারের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে ফ্লোটিং রিজ়ার্ভ তৈরি করছে। এগুলিকে চলতি কথায় Oil on Water বলা হয়ে থাকে। বন্দরের কাছে সমুদ্রের উপর বিশেষ প্রযুক্তির ট্যাঙ্কারে মজুত থাকে তেল। ক্যাভার্নের থেকেও সহজে এই মজুত তেল ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনে স্থান বদল করানো যায়। IOCL, BPCL, HPCL- একসঙ্গে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা শুরু করেছে। বেশ কিছুটা তেলও রয়েছে এই প্রযুক্তিতে।
SRP, অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির মজুত এবং ফ্লোটিং রিজ়ার্ভ ধরলে ভারতের হাতে এখন ৭৪ দিনের তেলের মজুত ভাণ্ডার রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেছিলেন, ‘ক্যাভার্ন, রিফাইনারি এবং ফ্লোটিং রিজ়ার্ভ মিলিয়ে এখন ৭৪ দিনের মজুত রয়েছে। এটা ৯০ দিনের হওয়া উচিত। আমরা এই মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন সদস্য কীরিট পারেখ জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে যদি যুদ্ধ আরও বেশিদিন চলে, তাহলে ভারত বরং রাশিয়া থেকে আরও তেল কিনতে পারে, পশ্চিম এশিয়ার তেলের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ চললে ভারত দাবি করতে পারে যে, যেহেতু আমেরিকা যুদ্ধ করছে তার জন্য তেলের দামে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সেই কারণে দেশের স্বার্থ দেখতে রাশিয়ার তেলের উপরেই ভরসা করতে পারে ভারত।ইরানের প্রত্যাঘাতে তিন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার ট্রাম্পের, কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন ফাইটার জেট, হামলা দূতাবাসেও