• পাহাড়ে বৈঠকে নিতীন, উঠল গোর্খাল্যান্ডের দাবি
    আজকাল | ০২ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধনে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন। রবিবার ১ মার্চ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে তিনি যাত্রার সূচনা করেন। ২ মার্চ সোমবারও তিনি উত্তরবঙ্গেই রয়েছেন। তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে শিলিগুড়িতে দফায় দফায় বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সোমবার সকাল থেকে শিলিগুড়ি সংলগ্ন সুকনার এক হোটেলে বৈঠক সারেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, নিরজ জিম্বা, দূর্গা মুর্মু, আনন্দময় বর্মন-সহ পাহাড়ের জনজাতিদের প্রতিনিধি, পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। বিজেপি সূত্রে খবর, বৈঠকের মাঝে উঠে আসে গোর্খাল্যান্ডের দাবি। বৈঠকে আলাদা রাজ্য না হলে অন্তত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, পৃথক রাজ্যের দাবি ছাড়াও পাহাড়ের ১১টি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিল উপজাতির স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে নিতীনের কাছে। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশ, অনুন্নয়ন, কলকারখানা বন্ধ ও চা বাগান ইস্যুতে রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করেন নিতিন। 

    এদিনের বৈঠকে নবীন বলেন, “বাংলায় যে ধরনের উন্নয়ন দরকার ছিল সেই উন্নয়ন আজও হয়নি। বাংলার উন্নয়ন ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দার্জিলিংয়ের চা গোটা বিশ্বে পরিচিত। ১৭০ বছরের ইতিহাসে ছেদ পড়েছে। উৎপাদনে চা আজ নিন্মগামী। যে চায়ে পরিচিতি, সেই চা নিয়েও এই সরকার ছেলেখেলা করছে। দেশে যেখানে সেমিকন্ডাক্টর হাব হচ্ছে সেখানে বাংলায় সামান্য ইন্ডাস্ট্রি আসছে না। বাংলাদেশ থেকে মানুষ নিয়ে এসে এখানে বসাচ্ছে। এই কাজ করছে বাংলার সরকার। এই মানুষগুলিকে কে বসাল, তাঁদের কাজ কে দিল, এগুলি চিন্তার বিষয়।” 

    তিনি আরও বলেন, “অনুপ্রবেশকারী নিয়ে কথা বললে মানুষ অন্যভাবে দেখছে৷ ভারতের হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক সবাই নিজেদের অধিকার পাবে। কিন্তু দেশের মানুষের অধিকার কাড়তে দেব না। তার জন্য লড়াই করতে হলে করব। এই সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামই বদলে দেয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচন বাংলার জন্য নির্বাচন নয়৷ দেশের জন্য নির্বাচন। বাংলাকে কেন্দ্র করে গোটা ভারতে সমস্যা হচ্ছে৷ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য মমতা দিদি কালো কোট পড়ে দিল্লি গিয়েছিল। বাংলাকে সুরক্ষিত করার জন্য এই নির্বাচন৷ সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সামান্য জমি দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে আমার প্রশ্ন আপনি কাদের।” 

    দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নিরজ জিম্বা বলেন, “আমাদের সঙ্গে খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। পাহাড়ের মানুষের যা সমস্যা তা তুলে ধরা হয়েছে৷ স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান, জনজাতির স্বীকৃতি, রোজগারের সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে গোর্খারা আছে, সেখানে গোর্খাল্যান্ডের দাবি উঠবেই। আর এদিনের বৈঠকে উঠেছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার পদক্ষেপ করবে।” 

    সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “কেন্দ্র সরকার পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের সমস্যা নিয়ে অবগত। আর কেন্দ্র সরকার এখানকার সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। সেজন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। আর আমি পাহাড় ও পাহাড়বাসীর সমস্যা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।”

    দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (পাহাড়) সভাপতি শান্তা ছেত্রী এই বিষয়ে বলেন, "বিজেপির নিতীন নবীন বা তাঁদের দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।"
  • Link to this news (আজকাল)