আজকাল ওয়েবডেস্ক: এই বছর বাজেট পেশের সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছিলেন। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় পেনশনভোগীদের নগদবিহীন চিকিৎসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা ছিল। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ স্বীকার করে, রাজ্য সরকার নিয়মগুলিতে একটি বড় সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। সেই সংশোধনী পেশ করল রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, যদি চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে সুবিধাভোগীকে সম্পূর্ণ বোঝা বহন করতে হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে নথিভুক্ত কর্মী এবং পেনশনভোগীরা বেসরকারি তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ইন-পেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট চিকিৎসার জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন চিকিৎসা সুবিধা পেতেন। তবে, দেখা গিয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ক্ষেত্রে, চিকিৎসার খরচ প্রায়শই নির্ধারিত নগদহীন সীমা অতিক্রম করে, যার ফলে কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চেপে যায়। পুরনো আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে নগদহীন সীমার বাইরেও খরচের সুবিধা দেওয়া হবে। এই সুবিধাটি পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য এই প্রকল্পের অধীনে প্রসারিত নয়। রাজ্য সরকার, কিছু দিন ধরেই, এই প্রকল্পের অধীনে পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের সুবিধার্থে চাকরিরত কর্মীদের জন্য চিকিৎসা অগ্রিম ভাতার বিধানের অনুরূপ একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। বিষয়টিতে সম্মতি জানিয়েছেন খোদ রাজ্যপালও।
২০২৬-২৭ সালের বাজেট প্রস্তাবে, সরকার ঘোষণা করেছিল যে যদি চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে সুবিধাভোগীকে পুরো বোঝা বহন করতে হবে না। সরকার অতিরিক্ত পরিমাণের ৭৫% (২ লক্ষ টাকার বেশি পরিমাণ) নগদহীন সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করেছিল। এই বর্ধিত সুবিধা কেবলমাত্র তখনই প্রযোজ্য হবে যখন সরকার-প্যানেলভুক্ত বেসরকারি বা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন যে এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল চিকিৎসা ব্যবস্থায় খরচ বৃদ্ধির কারণে পেনশনভোগীদের উপর আর্থিক চাপ কমানো।
এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, “এর ফলে এক দিকে যেমন উপকৃত হবেন অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীরা, তেমনই উপকৃত হবেন তাঁদের পরিবার। আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে এর জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”