• জাতীয় বিজ্ঞান দিবস: নেতাজিনগর কলেজ ফর উইমেনের আয়োজন
    আজকাল | ০২ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগর কলেজ ফর উইমেন-এ এক বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেল এবং আইকিউএসি-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কলেজের নবনির্মিত আধুনিক স্মার্ট সেমিনার কক্ষে। সুশৃঙ্খল আয়োজন, প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ আলোচনা, সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলেন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেল-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. প্রদীপ ঠাকুর এবং আইকিউএসি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মৌমিত রায়গোস্বামী। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, আর অ্যান্ড ডি সেল-এর সদস্যা ড. দেবাস্মিতা ত্রিপাঠী। তাঁদের দক্ষ পরিকল্পনা, সুসংগঠিত পরিচালনা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। 

    কলেজের অধ্যক্ষা ড. মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন হয়। তাঁর বক্তব্যে তিনি জাতীয় বিজ্ঞান দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গঠনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় মেয়েদের আরও এগিয়ে আসতে হবে, তবেই ভবিষ্যৎ সমাজ হবে যুক্তিনির্ভর ও প্রগতিশীল।” 

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেতাজিনগর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই মেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, “কৌতূহলই বিজ্ঞানচর্চার প্রথম ধাপ, আর সেই কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্ল্যেখ করতেও ভোলেননি।” 

    অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রসায়ন বিভাগের অধ্যাপিকা ড. চৈতালি ভট্টাচার্যের বক্তৃতা। ‘নারী বিজ্ঞানচর্চা ও বিকশিত ভারত’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি ইতিহাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজকের দিনে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নারীদের অংশগ্রহণ কেবল প্রয়োজনীয় নয়, অপরিহার্য। গবেষণা, নতুন কিছু আবিষ্কার এবং বিজ্ঞানের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নারীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।” 

    ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় মৌখিক প্রতিযোগিতা। কোনও বিষয়কে যেমন পরিবেশ দূষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি ইত্যদাই, মৌখিকভাবে উপস্থাপন করাই এই প্রতিযোগিতার সারাংশ। সঙ্গে ছিল বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতাও। কুইজের পরিচালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. বিপুল দে এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ ঠাকুর। সাধারণ বিজ্ঞান, গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, পরিবেশবিদ্যা ও মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছাত্রীদের তৎপরতা ও জ্ঞানের গভীরতা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। 

    অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক ড. প্রদীপ ঠাকুর জানান, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা জাগ্রত করা এবং তাঁদের আরও গবেষণামুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা। নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। সার্বিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অতিথিবৃন্দ ও ছাত্রীদের আন্তরিক ও উৎসাহী অংশগ্রহণে জাতীয় বিজ্ঞান দিবসের এই আয়োজন কলেজের শিক্ষাঙ্গনে এক ইতিবাচক, যুক্তিনির্ভর ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে।”
  • Link to this news (আজকাল)