তফশিল অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা অভিষেকের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ মার্চ ২০২৬
সমাবেশে মূলত তফসিলি সম্প্রদায়ের নেতা-কর্মীরাই উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক সরাসরি আক্রমণ শানান ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তফসিলি ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে এই ধরনের অপরাধের হার উদ্বেগজনক।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তফসিলিদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হতে পারে। অভিষেকের অভিযোগ, ‘বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে তফসিলিদের উপর অত্যাচারের নিরিখে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে। এই বিজেপি বাবা সাহেব আম্বেদকর রচিত সংবিধান সংশোধন করে তফসিলিদের অধিকার কেড়ে নেবে।‘
এর বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন অভিষেক। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুদান পাঁচ বছরে ১০০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আত্মতুষ্টিতে ভোগা চলবে না। বুথভিত্তিক সংগঠন আরও মজবুত করতে হবে এবং সম্ভাব্য জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য নিতে হবে।
প্রচারগাড়ির অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে মানুষের কাছে পৌঁছনোর নির্দেশও দেন তিনি। নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য কী করেছে সেই তথ্য তুলে ধরতে হবে।‘
এছাড়া বিজেপির ঘোষিত রথযাত্রা কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রথযাত্রা হয় বলে জানি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে রথযাত্রা আবার কী।‘ অভিষেকের হুঙ্কার, ‘চোর চিটিংবাজদের রথ। রথ যত্নে রাখুন। ওই রথেই গুজরাত ফিরে যেতে হবে। অন্তর্যামী আগামী দিনে ফল দেখিয়ে দেবে। বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামাতে হবে।‘ তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা গেলে জাতীয় স্তরেও তার প্রভাব পড়বে।