রাজ্যে শিল্পায়নের অভাব এবং নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে বাংলা— রাজ্যে শাসকদলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে বার বার আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। সেই ইস্যুকে তুলে ধরেই সোমবার মথুরাপুরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ থেকে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে পালাবদল হলে যুবকদের কর্মসংস্থান, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ আশ্বাস দিলেন শাহ।
রাজ্যে এসএসসি দুর্নীতির কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে যোগ্য শিক্ষকদের। তাঁদের পুনরায় চাকরিতে বহাল প্রক্রিয়া এখনও মধ্যগগনে। স্কুলে নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনেক যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর বয়স অতিক্রান্ত। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এ দিন বড় আশ্বাস দেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজেপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলায় সমস্ত শূন্য সরকারি পদ পূরণ করা হবে এবং চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের সর্বোচ্চসীমা ৫ বছর ছাড় দেওয়া হবে।
মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছুটা ব্যাকফুটে যেতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ পূরণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশনের ফারাক নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। এ দিন শাহ জানান, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের ষষ্ঠ বেতন কমিশনে আটকে রেখেছিল, বিজেপি সরকার গঠনের পরে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।
বিগত নির্বাচগুলিতে মতুয়াদের একটি বিরাট অংশের ভোট বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। তবে SIR হওয়ার পরে থেকে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকার সংশোধনের কারণে প্রচুর মতুয়া ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শাহ বলেন, ‘এই সরকার CAA-এর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কেন্দ্রে মোদী সরকার রয়েছে। একজন হিন্দু শরণার্থীর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে না।’
বাংলায় প্রচারে আসলে অমিত শাহের মুখে বরাবরই শোনা যায় অনুপ্রবেশের কথা। রাজ্যে অনুপ্রবেশ আটকাতেই ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়ে আসছে বিজেপি। শাহ এ দিন জানান, এই পরিবর্তন যাত্রা বাংলায় পরিবর্তনের জন্য। পরিবর্তন মানে মুখ্যমন্ত্রীর বদল নয়, ওটা তো সাধারণ মানুষ করবে। অনুপ্রবেশ বিরোধী বার্তা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাহ।
এ দিন রাজ্যের আরও চারটি প্রান্তে একযোগে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা হবে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে একটি যাত্রার উদ্বোধনে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বীরভূমের হাসন থেকে যাত্রার সূচনা করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। হাওড়ার আমতা থেকে যাত্রার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থেকে যাত্রার সূচনা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।