• ৪০ মিনিটেই এয়ারপোর্ট থেকে কাঁচরাপাড়া, নবরূপে নির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রা শুরু
    এই সময় | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার পথ, পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। ট্র্যাফিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। রাজ্যের যাতায়াত ব্যবস্থায় জুড়ল নতুন পালক। দোল ও হোলির আগেই রাজ্যবাসীকে বিশেষ উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর থেকে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নবরূপে নির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের (Kalyani Expressway) উদ্বোধন করলেন তিনি।

    এ দিন ভার্চুয়ালি এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক, সিগন্যালবিহীন এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে (Belgharia Expressway) জংশন থেকে কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড় জাগুলিয়া পর্যন্ত এই রাস্তা চার থেকে ছয় লেনের। যা কোনও বাধা ছাড়াই যাতায়াত করা যাবে। এই ৪০ কিলোমিটার পথে একটিও ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। কারণ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই রয়েছে এলিভেটেড করিডর বা আন্ডারপাস। ফলে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হতে হবে না দ্বিমুখী এই এক্সপ্রেসওয়েতে।

    নির্বাচনের আগে দুই জেলার মানুষদের পরিবহণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে এটি। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে জংশন থেকে কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড় জাগুলিয়া পর্যন্ত আগে যেতে সময় লাগতো প্রায় দু’ঘণ্টা। সেই দীর্ঘ জার্নির থেকে এ বার মুক্তি পাওয়া যাবে। সহজেই এ বার যাওয়া যাবে কল্যাণী এইমসেও (AIIMS)।

    পশ্চিমবঙ্গ হাইওয়ে কর্পোরেশন (West Bengal Highway Corporation) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এক্সপ্রেসওয়ে উন্নত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। দ্বিমুখী এই এক্সপ্রেসওয়ের দুই ধারেই রয়েছে স্থানীয় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য সার্ভিস রোড ও স্লিপ রোড। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এলিভেটেড করিডর ধরে সরাসরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে আসা যাবে। এর পর মাত্র ৪০ মিনিটেই কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে জাতীয় সড়ক-১২ যাওয়া যাবে। নবনির্মিত এক্সপ্রেসওয়েতে তৈরি হয়েছে চারটি বড় ফ্লাইওভার, সাতটি বড় আন্ডারপাস ও ছ’টি ছোট আন্ডারপাস। এ ছাড়া আছে ৭০টি ছোট, মাঝারি কালভার্ট, একটি ট্রাক লে বাই এবং ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। গাড়িচালক ও যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচটি আধুনিক শৌচালয়ও। এই এক্সপ্রেসওয়ের ফলে নতুন শিল্প বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি-সহ জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

  • Link to this news (এই সময়)