• ৬৩ লক্ষ নাম ‘Under Adjudicated’ কেন? ব্যাখ্যা কমিশনের, ফুঁসে উঠল WBCS অফিসারদের সংগঠন
    এই সময় | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (প্রথম পর্যায়) প্রকাশিত হওয়ার পরে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। একাধিক কাউন্সিলার, বিধায়ক থেকে শুরু করে বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে সেই তালিকায়। কিন্তু এত লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ কেন? দায় কার? কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট ERO/AERO-র জন্য এতগুলো ভোটারের কেস নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের এই বিবৃতির পরেই রাজ্যের WBCS অফিসারদের অ্যাসোসিয়েশন জানিয়ে দিল, এই দায় ERO/AERO-দের নয়। এই দায় কমিশন নিযুক্ত অবজ়ার্ভারদের। WBCS অফিসারদের এই বক্তব্যের পরেই ফের কমিশনের তরফে সোমবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে জানানো হয়, কমিশনের তরফে বলা হয়নি সমস্ত ‘Under Adjudicated’ কেস ERO/AERO-দের কারণে নিষ্পত্তি হয়নি। এই বিষয়ে কমিশনকে দায়ী করে সরকারি কর্মচারীদের ‘লক্ষণ রেখা’ পার করা উচিত নয় বলে জানিয়েছে  কমিশন।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ থাকার বিষয়টি নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমনকী, নির্বাচন ঘোষণার আগে এত ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ কি আদৌ শেষ করতে পারবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা? তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি বিবৃতে জানানো হয়েছে, ‘এটা জানানো প্রয়োজন, কিছু নামকে আন্ডার অ্যাজুডিকেটেড করা হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট ERO/AERO এই কেসগুলির নিষ্পত্তি করেননি। সেই কারণে এই নামগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুসারে হাইকোর্টের নিযুক্ত বিচারকদের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।’

    কমিশনের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে রাজ্যের WBCS অফিসারদের সংগঠন। তারা জানিয়েছে, ERO/AERO-রা ভোটারদের ‘Under Adjudicated’ করেছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। সেই সংগঠনের তরফে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

    ওই সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোটা SIR পর্বে প্রচুর পরিশ্রম করে কাজ করেছেন ERO/AERO-রা। তাঁরা হিয়ারিং, ডকুমেন্ট আপ্লোডিং-সহ যাবতীয় কাজ সামলেছেন। কমিশনের নিযুক্ত অবজ়ার্ভার এবং মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা কোনও পর্যবেক্ষণ ও মতামত ছাড়াই একাধিক কেস বাতিল করেছেন। সেই কারণেই ‘Under Adjudicated’-এর তালিকায় এত বেশি নাম যুক্ত হয়েছে। কমিশনের এই ধরনের অভিযোগ ERO/AERO-দের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর এবং মনোবল ভেঙে দিচ্ছে বলেও ওই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়।

    পাল্টা সোমবার কমিশন জানায়। সব কেস নয়, কিছু কেস ERO/AERO-র জন্য নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের ‘মুখপাত্র’ হয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় ওই সংগঠনের বলে দাবি করেছে কমিশন। এমনকী, ওই সংগঠনের তরফে কমিশনের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা মোটেই বাঞ্চনীয় বলেও দাবি করেছে কমিশন।

  • Link to this news (এই সময়)