স্কুলের বাগানের ফুল, আনাজ দিয়েই তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির (Herbal Abir)। কিন্তু সে আবির তৈরি করতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে। তার জন্য প্রশিক্ষণও প্রয়োজন। বীরভূমের বোলপুর (Bolpur) শিক্ষানিকেতন আশ্রম বিদ্যালয় তেমনই এক কর্মশালার আয়োজন করল দোলের আগে। তাতে অংশ নেন শিক্ষক–শিক্ষিকা, পড়ুয়ারা।
বীরভূমের বোলপুর শহর লাগোয়া এই স্কুলের বাগানে বিট, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং শাক–সহ অনেক আনাজের গাছ রয়েছে। এ সব দিয়ে তৈরি হয় স্কুলের মিড–ডে মিল। একই সঙ্গে বাগানে গাঁদা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, গোলাপ, জারবেরা, কসমস ফুলেরও গাছ রয়েছে। সেই সব ফুল ও আনাজের নির্যাস দিয়েই বানানো হয়েছে রংবাহারি আবির। যা পুরোপুরি রাসায়নিকবিহীন। কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সুবীরকুমার মাইতি।
পড়ুয়ারা জানিয়েছে, ভেষজ আবির তৈরি করা খুবই সহজ। এর উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন হয় কর্নফ্লাওয়ার বা ভুট্টার আটা, ট্যালকম পাউডার অথবা অ্যারারুট। তার সঙ্গে কাঁচা হলুদ, আনাজ বা ফুলের নির্যাস ও Vitamin E ক্যাপসুল মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে নিলেই তৈরি এই আবির।
সুবীর বলেন, ‘পালং শাক দিয়ে সবুজ, বিট দিয়ে বেগুনি, হলুদ গাঁদা ফুল বেটে হলুদ আবির তৈরি করল ছাত্ররাই।’ ছাত্র অঙ্কন দাসের কথায়, ‘এত সহজে ও তাড়াতাড়ি ভেষজ আবির তৈরি করা যায় ভাবিনি। নিজের হাতে তৈরি করে খুবই ভালো লাগছে। বাড়িতেও তৈরি করব।’
প্রধান শিক্ষক প্রশান্তকুমার দাস ছাত্রদের এই উদ্যোগে খুশি। তাঁর কথায়, ‘আগে ফুল, ফল ও আনাজ দিয়ে নিরাপদ ভেষজ আবির তৈরির চল ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে রাসায়নিক আবিরে বাজার ছেয়ে গিয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে আবারও ভেষজ আবিরের বাজার চাঙ্গা। কারণ, মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন। ত্বকের সমস্যা যাতে না হয় তাই অনেকেই ভেষজ আবির কেনেন।’ আর এই ধরনের প্রশিক্ষণ স্বনির্ভর হওয়ারও বার্তা দেয়।
এ দিন কর্মশালায় শুধু বোলপুর শিক্ষানিকেতনের পড়ুয়ারাই নয়, ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের খুজুটিপাড়া জুনিয়ার গার্লস স্কুলের ছাত্রীরাও অংশ নেয়। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা চক্রবর্তী জানান, ‘ভেষজ আবির তৈরির কর্মশালা হচ্ছে শুনে ছাত্রীদের নিয়ে এসেছিলেন। বেশ ভালো লেগেছে তাঁর। এ রকম কর্মশালা নিজের স্কুলেও করতে চান তিনি। এতে গ্রামীণ স্কুলের ছাত্রীরা আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগ পায়।’