• 'পরিবর্তন যাত্রা'য় 'পরিবারতন্ত্র' নিয়ে সরব শাহ
    আজকাল | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির মথুরাপুর থেকে রাজ্য বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ড. সুকান্ত মজুমদার, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব-সহ রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা।

    উদ্বোধনের আগে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি লেখেন, তৃণমূলের 'কুশাসনে' বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। সেই জনমতকে শক্তিশালী করতেই বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা’র অঙ্গীকার পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সভামঞ্চ থেকে একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন শাহ। যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। বিজেপি সরকার গঠন করলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    এদিন 'পরিবারতন্ত্র' ইস্যুতেও সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি চলছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সেই প্রবণতা স্পষ্ট। পাশাপাশি রাজ্যে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।ধর্মীয় মেরুকরণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় কি বাবরি মসজিদ হওয়া উচিত? তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে এবং রাজ্য সরকার তা মদত দিচ্ছে। 

    রাজ্যের উন্নয়ন নিয়েও তৃণমূল সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস ও সিপিএম আমলে উন্নয়ন হয়নি। আর তৃণমূল সরকার সেই পরিস্থিতিকে আরও তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। একমাত্র বিজেপিই ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সক্ষম বলে দাবি করেন তিনি।অমিত শাহ বলেন, রাজ্যের ন’টি জায়গা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হচ্ছে। তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরও একবার ধাক্কা দিতে হবে। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বদলাতে আমরা আসিনি, পরিবর্তন আনবে বাংলার মানুষই।” পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বিদায় করার অঙ্গীকারও আবার করেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রায়দিঘির এই হাই ভোল্টেজ সভা থেকে একদিকে যেমন ছিল রাজ্য সরকারের আক্রমণ তেমনি প্রচেষ্টা ছিল রাজ্য জুড়ে কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার দাওয়াই।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা এবং রাজ্যে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "পরিবারতন্ত্র নিয়ে অমিত শাহ ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন সেটাই আমি বুঝতে পারছি না! কারণ, পরিবারতন্ত্র বলতে তো উঠে আসে জয় শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং আকাশ বিজয়বর্গীয় বা শিশির অধিকারী এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ। আর সুশাসনের বিষয়টাই বা কি? মনিপুর, উন্নাও, হাথরস? দেশের নিরাপদতম শহর কলকাতায় আমরা সকলেই তো ভালো আছি। আসলে ওঁর বক্তব্য আমি শোনার সময় পাইনি। কারণ, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য শুনছিলাম।"
  • Link to this news (আজকাল)