আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিপিএমের সঙ্গে জোট হলেও বামফ্রন্টের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, এরা নামে মাত্রই আছে। আদতে এদের কোনও অস্তিত্বই নেই। সোমবার বীরভূমের ইলামবাজারে এসে জানালেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডের পর এই প্রথম বীরভূম জেলা শহরে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন হুমায়ুন। ইলামবাজারের নবগ্রামে একটি ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কার্যত নিজের রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ ও তাঁর সমর্থকরা। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, গত বছর ২২ ডিসেম্বর তিনি জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। বাংলার মানুষের উন্নয়ন, শান্তি এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সরকার প্রতিষ্ঠাই যার মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশেই বীরভূমের লাল মাটিতে তাঁর পদার্পণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বীরভূমে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, জেলার মোট ১১টি বিধানসভা আসনেই তাঁদের দল প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি কোনও রাজনৈতিক দল জোটে আসতে চায়, তাহলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কেউ জোটে না এলে জনতা উন্নয়ন পার্টি একাই ১১টি আসনে প্রার্থী দেবে। তিনি জানান, সিপিএমের সঙ্গে জোটের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার কথা হয়েছে এবং মহম্মদ সেলিমের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তবে সিপিএমের সঙ্গে সমঝোতা হলেও বামফ্রন্টের অন্যান্য শরিক দলগুলির সঙ্গে জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।
রাজ্য রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতৃত্বে আরও আট–নটি দলের সঙ্গে জোট গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তাঁদের লক্ষ্য দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। ১০ মার্চের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে তাঁরা রাজ্যের ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না। যদি জোট নিয়ে গড়িমসি হয়, তাহলে অন্তত ১৮২টি বিধানসভা আসনে জেইউপি প্রার্থী দেবে বলে জানান তিনি।
তিনি বিজেপিকে একটি সাম্প্রদায়িক দল বলে দাবি করেন এবং বলেন, আগের রথযাত্রা যেমন কোনও ফল দেয়নি, এবারও দেবে না। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ ভেঙেছে বিজেপি। আমি সেই বাবরি মসজিদ তৈরি করব। তাঁর দাবি, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তাঁকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বীরভূমে আগমনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, এর আগে অনুব্রত মণ্ডল, চন্দ্রনাথ সিনহা ও অভিজিৎ সিনহার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে এবারের সফর রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আগামী নির্বাচনে তৃণমূলকে পরাস্ত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
যদিও হুমায়ুন কবীরকে পাত্তা দিতে চাননি মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তিনি বলেন, তিনি কার সঙ্গে জোট করবেন সেটা তাঁর বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। বোলপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা রামচন্দ্র ডোম বলেন, তিনি কাদের সঙ্গে জোট করতে চান না চান, সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে, বামফ্রন্টের শরিক দল প্রসঙ্গে যে কথাগুলো বলেছেন সেটা দলগতভাবে আলোচনা করা হবে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল কটাক্ষ করে বলেন হুমায়ুন কবীর তো বিশ্বনেতা হয়ে যাননি, অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন এবং বাবরি মসজিদ তৈরি করার নামে কিছু মুসলিমকে বিভ্রান্ত করে টাকা রোজগার করছেন। তাই ওর কথার কোনও গুরুত্ব দেওয়া বিজেপি প্রয়োজন মনে করে না।