ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে কয়েকশো কোটির ক্ষতির আশঙ্কা দার্জিলিংয়ের চা শিল্পে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ মার্চ ২০২৬
ইরান ও সংলগ্ন উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভারতীয় চা রপ্তানি করা হয়। সেখানে মূলত অর্থডক্স ও সিটিসি চা পাঠানো হয়। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত বেড়ে চলায় আটকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অর্থডক্স চা। শুধু তাই নয়, দুবাই হল চা রপ্তানির ট্রানজিট পয়েন্ট। সেখানেও হামলা হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যদি দুবাই যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ভারতীয় চা উৎপাদক ও রপ্তানীকারীদের।
আবার ইরান কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘুরপথে ভারতের জাহাজ চলাচলের সময় অন্তত ২০ দিন বেশি এবং খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে। এছাড়াও বিমান পরিবহন খরচ ইতিমধ্যে বেড়েছে। জাহাজ পরিবহন খরচও বাড়বে। তার উপর শিপিং রুট এবং বিমানবন্দরগুলো এখন যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিক দেশের বিমান পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে চা উৎপাদক ও রপ্তানিকারীদের।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা বলেন, ‘২০২৫ সালে ভারত থেকে ২৮০ মিলিয়ন কেজি চা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ফলে যোগাযোগ ব্যাহত হতে শুরু করেছে। অফিস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভারত থেকে ইরানে চা রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না।’
আবার ইন্ডিয়ান টি প্ল্যানটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব রামঅবতার শর্মা বলেন, ‘এবার পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ৪০০ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে তরাই, ডুয়ার্স-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা শিল্পে।’ দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ না হলে উত্তরবঙ্গ ও আসামের চা শিল্পের বিরাট ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা চা রপ্তানিকারীদের।