অবশেষে স্বস্তি। যুদ্ধের (War) জেরে আটকে পড়েছিলেন আবু ধাবিতে। প্রাণ ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন প্রায়। শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে (Abu Dhabi to Delhi Airport) পা রাখলেন ৩১০ জন ভারতীয়। তাঁদের জন্য দুপুর থেকে অপেক্ষা করছিলেন আত্মীয়-স্বজনরা। দেখা মাত্র জড়িয়ে ধরলেন। প্রত্যেকের মুখে হাসি, চোখে জল।
এ দিন দুপুর ৩.৪২ মিনিটে আবু ধাবি থেকে রওনা দেয় এতিহাদ এয়ারওয়েজের (Etihad Airways flight) ফ্লাইট EY216। রাত ৮.৩১ মিনিটে অবতরণ করে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ফ্লাইটের সিঁড়ি দিয়ে এক এক করে যাত্রীরা নামছেন, আর গোটা বিমানবন্দরে হাততালির ঝড় উঠছে।
এই ফ্লাইটেই ছিলেন রাহুল কুমার। ২৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি ফেরার কথা ছিল তাঁর। ভোরে আবু ধাবি বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বোর্ডিং পাসও পেয়ে যান। কিন্তু তার পরেই যুদ্ধ শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে সবাই হোটেলে ফিরি। তার পর থেকে রুমেই ছিলাম। তিন দিন ধরে শুধু মিসাইল আর বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছি। আমাদের হোটেল পর্যন্ত কেঁপে কেঁপে উঠছিল।’
ক্যানাডা থেকে ফিরছিলেন হরপিন্দর সিধু। আবু ধাবিতে তাঁর স্টপওভার ছিল। সেখানেই আটকে পড়েন। আরব আমিরশাহি প্রশাসনের প্রশংসা করছেন তিনি। হরপিন্দরের কথায়, ‘প্রশাসন সব দিক সামলে দিয়েছে। ফলে অতটা আতঙ্ক ছড়ায়নি।’ ছেলে আর পুত্রবধূকে দুই দিকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরাচ্ছিলেন শশী পারমা। কোনও রকমে বললেন, ‘প্রথম বার দিল্লি এসে নিজেকে এতটা নিরাপদ মনে হচ্ছে।’
শনিবার সকালে ইরানের তিনটি শহরে এয়ার স্ট্রাইক (Air Strike) করে ইজ়রায়েল (Iran Israel Conflict)। তার পরেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পাল্টা বাহারিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরবে হামলা করতে শুরু করে ইরান। তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যায় বিমান পরিষেবা। আটকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। তবে ফের বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হচ্ছে।
দুবাইয়ের মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ২ মার্চ সন্ধ্যা থেকেই সীমিত সংখ্যক বিমান নিয়ে পরিষেবা চালু করেছে ফ্লাই দুবাই। এমিরেটস-ও পরিষেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছে। খুব শীঘ্রই সূচিও ঘোষণা করা হবে। আংশিক পরিষেবা চালুর কথা জানিয়েছে আবু ধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও।