গোপাল সোনকার
পলাশন অঞ্চলের বাঁশা গ্রাম। মেঠো রাস্তায় চলত দৌড় প্র্যাকটিস। দু’বেলা অন্ন জোটেনি কোনওদিন। তবে অনুশীলন থামেনি। মিডল স্ট্যাম্প ছিটকে দেওয়ার অদম্য জেদ। রাইট আর্ম ফাস্ট মিডিয়াম বোলার সৌমেন চট্টোপাধ্যায় আজ স্বপপূরণের প্রথম ধাপে। বর্ধমান প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সুযোগ পেয়েছেন রাজস্থান Rajasthan Royals টিমে। তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা একদমই মসৃণ ছিল না।
পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ব্লকের পলাশন অঞ্চলের বাঁশা গ্রামের যুবক সৌমেন চট্টোপাধ্যায়। জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলে সুযোগ পেয়েছেন। Rajasthan Royals দলে নেট বোলার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল সৌমেনের। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিবার তাঁর স্বপ্নপূরণে সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় পেশায় ট্রাক্টর চালক ও গ্রামীণ পূজারী, মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় গৃহবধূ। সীমিত আয়ের সংসার চালিয়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করে ছেলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তাঁর মা। ছেলের কাঁধে হাত রেখে বাবা ভরসা জুগিয়েছেন বাবা, ছেলেকে সবসময়েই বলতেন, ‘তুই খেলে যা। সংসারের কথা ভাবতে হবে না।’
কলকাতার সুপার ডিভিশনের ক্লাব ডালহৌসির নিয়মিত বোলার সৌমেন। তিনি জানান, দেশ জুড়ে নেট বোলার সিলেক্ট করে রাজস্থান রয়্যালসের স্পনসর সংস্থা। ভূবনেশ্বরে একটি ক্যাম্প হয়েছিল। সেখানেই তিনি সুযোগ পেয়েছেন। গতবার তিন জনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। অল্পের জন্য সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় সৌমেনের।
তাঁর কথায়, ‘আমার বলের গতি তিন চার কিলোমিটার কম ছিল। এবারও তিনজনকে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আমি একজন। নেট বোলার হয়ে সুযোগ পেয়ে অনেকেই আইপিএল খেলছে। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তাই আমিও যাতে সেই সুযোগ পাই,সেই লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাব।’ সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে? সৌমেন বলেন, ‘এই জায়গায় পৌঁছতে পরিবারের সহযোগিতা ও কোচদের দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আইপিএলের মঞ্চে সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফরম্যান্স করে গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’
তাঁর সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে গ্রামের সকলে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর এই সাফল্য আগামী দিনে এলাকার আরও তরুণ-তরুণীদের ক্রিকেটে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।