এই সময়: কালীঘাট এলাকার এক যৌনকর্মীকে হেনস্থা করতে তাঁর নিরাপত্তায় থাকা এক যুবককে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে আড়াই দশক আগে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল শহরে। সেই ঘটনায় হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, নিহতের পরিবার ও ওই যৌনকর্মীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু এতদিনেও ওই যৌনকর্মী সেই ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় সোমবার তাঁর আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালত আগামী সোমবার শুনানির আশ্বাস দেয়।
কালীঘাট এলাকার এক যৌনকর্মীর সঙ্গে এক পুলিশকর্মী যৌন সম্পর্ক করতে চেয়ে জোরাজুরি শুরু করলে বাধা দেন ওই যৌনকর্মীর বডিগার্ড হিসেবে কাজ করা স্থানীয় এক যুবক। কিছুদিন পরে ওই যুবককে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। সেই সময়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি অশোককুমার মাথুর ও বিচারপতি বারীণ ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ ঘটনার তদন্তভার দেয় আলিপুর জেলা বিচারককে। তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে হাইকোর্টে।
রিপোর্ট দেখার পরে ২০০০–এর ২৫ অগস্ট ডিভিশন বেঞ্চ নিহত যুবকের পরিবার ও ওই যৌনকর্মীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বেতন থেকে অর্থ কেটেই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। কেটে নেওয়া টাকা প্রথমে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা নিহত যুবকের পরিজন ও যৌনকর্মীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল। পরে তদন্ত করে জানানো হয়, ওই যৌনকর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেই থেকে ওই টাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেই জমা আছে।
সম্প্রতি জানা যায়, ওই যৌনকর্মী আগের পেশা ছেড়ে বিয়ে করে এ রাজ্যেরই এক জেলায় বসবাস করছেন। প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পেতে এ বার তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।