• বঙ্গে ক্ষমতায় এসে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব! হুঙ্কার অমিত শাহের
    এই সময় | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বাংলার ভোটার তা‍লিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর অথবা সার) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। সেই লিস্ট থেকে ‘ডিলিট’ হয়েছে বঙ্গের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ভোটারের নাম। এখন ‘বিচারাধীন’ প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ। যা নিয়ে সরগরম বঙ্গ–রাজনীতি। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন, যা এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।

    এ দিন বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’য় অংশ নিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের রায়দিঘিতে হাজির হয়েছিলেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন। শাহ দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে শুধু অনুপ্রবেশকারীদের নাম ‘ডিলিট’ করাই নয়, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের দেশ থেকেও তাড়ানো হবে। তাঁর কথায়, ‘বাংলা সীমান্তবর্তী রাজ্য। এই রাজ্যের সুরক্ষা তৃণমূল সরকার করতে পারছে না। উল্টে তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় ঢুকিয়েছে। এখন তো শুধু ওদের নাম কাটা হয়েছে। তাতেই মমতাদিদির পেটে গুড়গুড় হচ্ছে। মমতা দিদি অপেক্ষা করুন, শুধু নাম কাটাই নয়, বিজেপি সরকার আসার পরে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানো হবে।’

    এ দিনই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যো‍পাধ্যায় জানান, তাঁর মন ভালো নেই। কারণ, ভোটার তালিকা থেকে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চলেছে! আমার মন ভাল নেই। বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে গিয়েছে, তাঁর নাম কেটে গিয়েছে! জেনুইন ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। সব তথ্য দেওয়ার পরেও নাম কেটেছে। নির্বাচন কমিশন বায়াসড হয়ে কাজ করেছে। ভ্যানিশ কুমার ভ্যানিশ করছে। মানুষের গণতন্ত্র বিপন্ন।’ নাম না–করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকেও বেঁধেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘এখানকার একজন বদমাইশ লোক আছে, সব দোষ বিএলও-দের উপরে দিচ্ছে!’

    এ দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগও তুলেছেন শাহ। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘পরিকল্পিত ভাবেই বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে তাড়িয়েছেন মমতা। যাতে হিন্দু সমাজের রাগ তৃণমূলের উপরে এসে না পড়ে।’ রাজ্যের অন্তর্বতী বাজেটে বিজ্ঞান চর্চার বহুগুণ বেশি টাকা কেন মাদ্রাসা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ হয়েছে সেই প্রশ্নও তুলেছেন শাহ।

  • Link to this news (এই সময়)