এই সময়: রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘যুবসাথী প্রকল্প’ ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যেখানে মাধ্যমিক পাশ করা তরুণ–যুবকদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হবে। বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল সরকারের এই ঘোষণায় কিছুটা চাপে বিজেপি। বাংলার যুবসমাজের ভোট নিজেদের দিকে টানতে তাই ভাতার পরিবর্তে স্থায়ী চাকরির স্বপ্ন ফেরির কৌশল নিয়েছেন পদ্ম ব্রিগেডের শীর্ষ নেতৃত্ব।সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’য় বঙ্গের যুব সমাজের কাছে কার্যত ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ হয়ে ওঠার চেষ্টাই করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও এ দিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় নজরুল মঞ্চে দলীয় সভায় থেকে দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বাংলার জন্য কিছুই করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। যা করার সবই করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
শুধু শাহ নন, এ দিন ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সূচনা করতে হাজির ছিলেন বিজেপির একঝাঁক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা। হাওড়ার আমতায় সভা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও শমীক ভট্টাচার্য। বীরভূমে তারাপীঠে হাজির ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং মিঠুন চক্রবর্তী। উত্তর দিনাজপুরে ইসলামপুরে সভা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং দিলীপ ঘোষ। এবং উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে জনসভা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান আর শুভেন্দু অধিকারী। মথুরাপুরে শাহের সঙ্গে ছিলেন সুকান্ত মজুমদার।
এ দিনের জনসভা থেকে শাহ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন বাংলার যুব সমাজকে। তাঁর কথায়, ‘যুবকদের জন্য বিজেপি ভালো খবর এনেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০২৬–এর ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকারের সব শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। যুব সমাজ চাকরি পাবে কোনওরকম ঘুষ ছাড়াই।’ শাহের দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বন্ধ করা পদগুলিতেও নিয়োগ হবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে। ক্ষমতায় আসার দু’মাসের মধ্যে আমরা সব লুপ্তপদ ফিরিয়ে আনব।’ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না-হওয়ায় যুবসমাজ চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে শাহ অভিযোগ করেন। সেই সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তৃতীয় প্রতিশ্রুতি, ‘বসে থেকে থেকে যাঁদের চাকরির বয়স চলে গিয়েছে, বিজেপির সরকার হলে, তাঁদেরকে বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বকেয়া ডিএ আটকে থাকায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। সেই ক্ষোভ আরও উসকে দিয়ে শাহের বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা মমতাদিদির ১৫ বছরের সরকারকে অনেক সাহায্য করেছেন। কিন্তু যাঁরা সাহায্য করলেন, তাঁদের জন্য মমতাদিদি কী করলেন?’ তাঁর সংযোজন, ‘গোটা দেশে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশন পেয়ে গিয়েছেন। এ বার অষ্টম বেতন কমিশন পেতে চলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ কমিশনের বেতন পাচ্ছেন। রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা সপ্তম বেতন কমিশনের হারে বেতন দেবো।’
উল্টো দিকে, নজরুল মঞ্চের কর্মসূচি থেকে অভিষেকও এ দিন বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন জোরালো ভাবে। তাঁর আক্রমণ, ‘মোদী সরকার দেখাক, গত ৫ বছরে তারা একশো দিনের কাজে ৫ পয়সা দিয়েছে বাংলাকে? সড়ক যোজনায় ১০ পয়সা দিয়েছে? কেন্দ্র শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। যা দেওয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন। বাংলা থেকে গত ৭ বছরে ৭ লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্র। মমতা ছাদ দিতে পারেন, রাস্তা করতে পারেন, আগামী দিনেও দেবেন।’