সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
অস্থির পশ্চিমের আকাশ। মাথার উপর দিয়ে ঘনঘন উড়ে যাচ্ছে মিসাইল (Missile)। তারই জেরে আপাতত বন্ধ আকাশপথ। সমস্ত উড়ান বাতিল (Flight Cancel)।
উগান্ডা যাওয়ার পথে দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Midnapore) ডেবরার যুবক অপূর্ব খাড়া। সোমবার পর্যন্ত হোটেলেই বন্দি। এই নয় যে, বাইরে বেরনো যাচ্ছে না। তবে প্রয়োজন ছাড়া হোটেল থেকে না বেরনোর অনুরোধ জানানো হয়েছে সকলকে। দুশ্চিন্তাটাও এখন অনেকটা কমেছে। দুবাই সরকার সব রকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকী, হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচও সরকার বহন করার কথা জানানোয় বেড়েছে মনোবলও। তবু ছটফট করছে মন। চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি শান্ত হোক। তা হলে কর্মক্ষেত্র উগান্ডায় যেতে পারবেন। নয়তো ভারত সরকার যদি সকলকে দেশে ফেরানোর কথা বলে, তখন দেশেই ফিরে যাবেন।
ডেবরার অযোধ্যাপুরের বাসিন্দা অপূর্ব পলিটেকনিক পাশ করার পরে প্রথমে বেঙ্গালুরুতে একটি সংস্থায় চাকরি পান। বর্তমানে যে সংস্থায় চাকরি করেন তার জন্য মাঝেমধ্যেই রোয়ান্ডা, উগান্ডা ও কেনিয়ায় যেতে হয়। শনিবার অফিসের নির্দেশেই রাত একটায় ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে ওঠেন। দুবাই বিমানবন্দরে (Dubai Airport) নামেন সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। দুপুর দেড়টায় ছিল উগান্ডার কানেক্টিং ফ্লাইট। কিন্তু মাত্র ২০ মিনিট আগে জানানো হয়, ফ্লাইট ডিলে রয়েছে। তখনও দেরির কারণ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না যাত্রীরা।
অপূর্ব জানিয়েছেন, সন্ধে ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ যখন সমস্ত ফ্লাইট বাতিলের কথা জানানো হয়, তখন সকলে বুঝে যান যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিমানবন্দরে তখন প্রায় হাজার পাঁচেক যাত্রী। তার মধ্যে বহু ভারতীয়। অপূর্বর কথায়, ‘পরিবার রয়েছে যাঁদের, প্রথমেই তাঁদের অন্যত্র নিয়ে যায় এয়ারলাইন্স। পরে আমাদের মতো একা যুবকদের নিয়ে যায় বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের হোটেলে। একই ঘরে কয়েক জনকে থাকার ব্যবস্থা করে।’ শনিবার রাতে দুবাইয়ের আকাশ দিয়ে মিসাইল উড়ে যেতে দেখেছেন নিজের চোখে। অপূর্ব বলেন, ‘প্রথমে ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যদিও আমাদের দেখভালের ও নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে দুবাই সরকার।’
অপূর্ব যে হোটেলে রয়েছেন সেখানেই প্রায় ২০০ ভারতীয় রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বহরমপুরের তাসিবুল শেখ, মধ্যমগ্রামের মৃন্ময় দত্ত, মেচেদার প্রদেশ হাজরা, চিনার পার্কের জাকির হোসেন, হলদিয়ার চৈতন্যপুরের শিবশঙ্কর শাসমলের সঙ্গে অপূর্বর সখ্যও গড়ে উঠেছে। ছ’জন একসঙ্গেই থাকছেন। সকলেই ইঞ্জিনিয়ার। অপূর্ব বলেন, ‘বাংলার আরও অনেকেই রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে নিয়ম করে ভিডিয়ো কলে কথা বলছি। যাতে তাঁরা দুশ্চিন্তায় না পড়েন।’
অপূর্বর ভাই সুমন, স্ত্রী পিঙ্কিও জানান, ‘ভিডিয়ো কলে কথা বলেছি। প্রথমে তো বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। হোটেলের বাইরেও ছবিও দেখিয়েছে। দেখেছি, বড় বড় বাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে, গাড়ি চলছে, মানুষজন যাতায়াত করছে। এসব দেখে স্বস্তি বোধ করছি। দ্রুত ফিরে আসুক।’ অপূর্ব জানিয়েছেন, তাঁদের যে হোটেলে রাখা হয়েছে, সেখানে প্রায় সব ধরণের ভারতীয় খাবারও পাওয়া যাচ্ছে। এমনকী হোটেলে ভারতীয় কর্মীও রয়েছে। অপূর্ব–র কথায়, ‘সব মিলিয়ে দুবাইয়ে রয়েছে বলে মনেই হচ্ছে না।’