• হুমায়ুনকে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা?
    আজকাল | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে। কলকাতা হাইকোর্টের সরাসরি কোনও নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও হুমায়ুনকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে এবার ভারতীয় জনতা পার্টির 'সেটিং'-এর তত্ত্ব খাড়া করল মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    যে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের ছেতিয়ানি এলাকায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করার সময় বিরোধীতায় সরব হয়েছিল বিজেপি, সেই হুমায়ুন কবীরকে কেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল তা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা নেত্রীরা। 

    প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ভরতপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ার আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রতীকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সহ অন্যান্য নেতা নেত্রীদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তৃণমূল বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে হুমায়ুনের সেই পুরনো সখ্যতা এখনও রয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই তলে তলে বিজেপিকে সাহায্য করার জন্যই তিনি নতুন দলের সূচনা করেছেন বলেও অনুমান করছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই। 

    তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্ট হুমায়ুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেয়নি। তবুও হুমায়ুনের ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতে ৭ দিনের মধ্যেই অমিত শাহ-এর নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিয়েছে। একে বিজেপির রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    সূত্রের খবর, আদালতে রাজ্য সরকারের রিপোর্টে জানানো হয়েছে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে দু'জন সশস্ত্র কনস্টেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে সর্বক্ষণ বহাল থাকেন এবং এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা তাঁর সঙ্গে ঘটেনি। তা সত্বেও রাজ্য সরকারের নিরাপত্তারক্ষীর ওপর ভরসা না করে  আবেদনের মাত্র ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরি নিরাপত্তা প্রদান করার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। 

    তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে প্রশ্ন উঠেছে এই নিরাপত্তা প্রদানের পেছনে আদৌ কি কেবল নিরাপত্তাজনিত মূল্যায়ন রয়েছে নাকি এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে? পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রদানকে মোদি সরকারের নতুন রাজনৈতিক চাল বলেও মনে করছেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, এবার বাংলার রাজনীতিকে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ছক সাজানোর পরিকল্পনা আশঙ্কা করছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতৃত্ব। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, "এই হুমায়ুন কবীর এক সময় বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তখন থেকেই তাঁর বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা। আর এই সখ্যতার জেরেই নতুন দলের জন্ম।" তিনি আরও বলেন, "রাজ্য সবাইকে নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু রাজ্যের নিরাপত্তাকে অগ্রাহ্য করে অতিসক্রিয়তার সঙ্গে অমিত শাহর দপ্তর যেভাবে হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করল, তা থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর 'সেটিং' প্রমাণিত। এক কথায় বলতে গেলে বিজেপির হাতকে শক্ত করার জন্যই এইরকম নতুন দল আর নতুন নেতাদের জন্ম।"

    বিজেপির মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, "বিজেপি 'সেটিং'-এর রাজনীতি করে না। তৃণমূল কংগ্রেস বুঝে গেছে বাংলার মানুষ আর তাদের পাশে নেই। সেই হতাশা থেকেই সেটিং-এর তত্ত্ব আনতে চাইছে। তাছাড়া বিজেপি যদি সেটিং করত তাহলে অনেক আগেই এই রাজ্যে ভালো ফল করতে পারত।" তিনি আরও বলেন, "বিজেপি হুমায়ুনকে আগেই অযোগ্য বলে দিয়েছে। যে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট জেতার চেষ্টা করে তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি ব্যবস্থা নেবে, তাঁর সঙ্গে কখনওই সেটিং করতে যাবে না। বিজেপি নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসই,  সিপিএম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সেটিং করে বিজেপির ভোট কেটে তাঁদের নিজেদের যাত্রাপথ সুগম করেছে।"
  • Link to this news (আজকাল)