• লাইনের পর আবার লাইনে, হয়রানির শেষ নেই
    আজকাল | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি, ৫ মার্চ: নাম বাদ পড়েছে। কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার লাইনে। এবারে লাইন জেলা শাসকের দপ্তরে। এনুমারেশান ফর্ম ভরে শুরু হয়েছিল এসআইআর। তারপর আসতে শুরু করে শুনানির ডাক। আবারও সেই লাইন। ভোটাধিকার বাঁচাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে। চলল তথ্য যাচাই। যুক্ত করা হল আদালতের বিচারকদের। বিদ্ধস্ত হল বিচার ব্যবস্থা। চরম হয়রানির শিকার হলেন বিচারপ্রার্থীরা। অবশেষে বেরোল তালিকা। কিছুটা স্বস্তির আশ্বাস! না, সেখানেও অসঙ্গতি। এবার এল লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি। আর, সেই নামের দোহাই দিয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়ল অনেকের নাম। আবার সেই চেনা ছবি। আবারও দীর্ঘ সময় লাইনে। তবে, এবার লাইনে দাঁড়ালেন ডিলিটেড ভোটাররা। কিছুতেই যেন শেষ হচ্ছে না এসআইআর। আবারও উঠল সেই হয়রানির অভিযোগ। দোল, হোলির ছুটির পর বৃহস্পতিবার খুলেছে প্রশাসনিক দপ্তর। সকাল থেকেই জেলাশাসক দপ্তরে উপচে পড়া ভিড়। ভিড় করেছেন এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকায় যারা বাদ পরেছেন, তাঁরা। আবার তাঁরা লাইন দিয়েছেন। তাঁদের সংশয় ভোটার কার্ডটা থাকবে তো ? বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন তো?‌ ইত্যাদি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ডিলিটেড ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন যা যা তথ্য চেয়েছিল, সব দেওয়া হয়েছে। তারপরও নাম কি করে বাদ গেল। সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না কেউ। এবার আবার ফর্ম ছয় পূরণ করে নাম সংযুক্তিকরণের আবেদন করছেন। পাশাপাশি জেলাশাসক দপ্তরে এসে তথ্য জমা করছেন নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। 

    বৃহস্পতিবার হুগলির বলাগড়ের খামারগাছি থেকে চুঁচুড়ায় জেলাশাসকের দপ্তরে এসেছেন রিয়া বিশ্বাস। তিনি সন্তানসম্ভবা। আর কিছুদিন পরই ভূমিষ্ঠ হবে তাঁর সন্তান। শারীরিক কষ্ট রয়েছে। তবুও তাকে আসতে হয়েছে। জেলা শাসক দপ্তরে দাঁড়াতে হয়েছে লাইন দিয়ে। সকাল দশটা থেকে রিয়া লাইনে দাঁড়িয়ে। একটা সময়ের পর আর দাঁড়াতে পারেননি। বসে পড়েছেন। দপ্তরের মেঝেতে বসে ডাকের অপেক্ষা করেছেন। তার স্বামী দেবব্রত বিশ্বাস সহ শ্বশুর শ্বাশুড়ি বাবা মা সকলের নাম আছে। তার নামটাই বাদ পরেছে। জন্মের শংসাপত্র সহ সব তথ্য দিয়েছিলেন। তবুও নাম তাও বাদ গেছে। কষ্ট হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হবে। তিনি বোঝেন, না হলে সব শেষ। তাই এই অবস্থাতেও তাকে আসতে হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়েছেন বলাগড়ে সিনিয়র সিটিজেন তেষট্টি বছরের রমেশ পরামানিক। এদিন তিনি বলেছেন, দু’‌বার তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তিনি হাজির হয়েছেন। যাবতীয় তথ্য দিয়েছেন। আঠেরো বছর বয়স থেকে তিনি ভোট দিচ্ছেন। অথচ এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম নেই। বাদ চলে গেছে। তাই আবার তিনি এসেছেন, যাতে ভোটটা দিতে পারেন। শুধু এই দু’‌জন নয়। এরকম হাজার হাজার আরও অনেকেই এসেছেন। তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে গেছে। রাজ্যের প্রায় চৌষট্টি লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। এখনও প্রায় ষাট লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। তাই উদ্বেগ উৎকন্ঠা সকলের মধ্যেই। 

    ছবি:‌ পার্থ রাহা

     
  • Link to this news (আজকাল)