• SIR আতঙ্কে মৃত্যু রানাঘাটে, মৃত্যুর অভিযোগ শালবনিতেও
    আজকাল | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকমাসে রাজ্যে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ একাধিক। কোথাও নাম না থাকার আতঙ্কে হৃদরোগে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল, কোথাও এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছিল। এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যে। তার  মাঝেও মৃত্যুর অভিযোগ। 

    অভিযোগ, রানাঘাটে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এসআইআর আতঙ্কে। রানাঘাটের জয়দেব দত্ত, বয়স ৬২।  অভিযোগ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ছিল না। তা থেকে ক্রমেই চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এসআইআর আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির, অভিযোগ তেমনটাই।

    অন্যদিকে, মেদিনীপুরের শালবনিতে এক বিএলও'র  মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম সুবিমল কারাক। তিনি তিনি লালগেরিয়া সাবলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় তিনি বিএলও'র দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। অভিযোগ এসআইআর-এর আকজের চাপে তিনি প্রবল চিন্তা এবং উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। 

    বুধবার সামনে আসে আরও এক তথ্য। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নামের পাশে লেখা ‘‌বিচারাধীন’‌। আর তা দেখার পরেই রীতিমতো আতঙ্কিত ছিলেন মগরাহাটের উস্তি থানার ঘোলা নোয়াপাড়ার বাসিন্দা রফিক আলি গাজি। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন পেশায় ভ্যানচালক বছর ৪৪-এর রফিক।

    পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও ভোটার লিস্টে নাম বিচারাধীন থাকায় আতঙ্কে ছিলেন তিনি। সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মঘাতী হন রফিক। এমনটাই অভিযোগ পরিবারের। খবর পেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমবেশি প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ–আতঙ্ক। আবার তালিকায় নাম থাকলেও বহু মানুষের নাম বিচারাধীন রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় ছিলেন রফিক আলি গাজিও। জানা গিয়েছে, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন তিনি। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই রয়েছে। আগেও একাধিকবার ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু এবার এসআইআর শুনানিতে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রকাশিত ভোটার লিস্টে তাঁর নাম বিচারাধীন হিসেবে রয়েছে। এরপর থেকেই রফিক আতঙ্কে ছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
  • Link to this news (আজকাল)