• সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে বিশেষ বক্তৃতামালা
    আজকাল | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে বিশেষ মাসিক বক্তৃতামালার আয়োজন। 'ডিকলোনাইজেশন অফ নলেজ অ্যান্ড ডিকলোনিয়াল পেডাগগি: লুকিং ব্যাক অ্যান্ড মুভিং ফরোয়ার্ড' শীর্ষক এই আলোচনায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক, অধ্যাপকরা থাকছেন এই বিষয়ে বক্তৃতা দিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগ গত এপ্রিল মাস থেকে এটি বিশেষভাবে আয়োজন করছে। এবারে বক্তব্য রাখবেন অধ্যাপক অশোক রঞ্জন ঠাকুর। এই সিরিজের পরবর্তী আলোচনা আগামীকাল৷ 

    অধ্যাপক অশোক রঞ্জন ঠাকুর এবারে বক্তব্য রাখবেন 'এ ডিকলোনিয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ ইন্ডাস ভ্যালি সিভিলাইজেশ্যন'- এর উপরে৷ সভায় উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক বুলা ভদ্র সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। 

    এই বিষয়টি নিয়ে ভারতে চর্চিত সমাজবিজ্ঞানের পরিধিতে এর আগে তেমন করে আলোচনা হয়নি। সে দিক থেকে দেখতে গেলে বিষয় হিসাবে এটি অভিনব। ভারত যেমন উপনিবেশ ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার ঐতিহাসিক উদাহরণ হওয়া সত্ত্বেও, দীর্ঘদিন গবেষণার এই অধ্যায়ে তেমন কেউ আলো ফেলেনি। ভারতে সমাজবিজ্ঞানের চর্চাতেও এই দিকটি অনালোকিত থেকেছে। এই বক্তৃতা সেই উপেক্ষিত বিষয়ে আলো ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    প্রফেসর অশোক রঞ্জন ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি মূলত বায়োফিজিক্স এবং মলিকুলার বায়োলজির একজন বিশেষজ্ঞ। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগসূত্র রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরুর দিকে দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    এর আগে এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর উইলিয়াম জে. এমপোফু। প্রফেসর উইলিয়াম জে. এমপোফু দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষা জগতের পরিচিত মুখ। সহজ কথায় বলতে গেলে, তিনি এমন একজন গবেষক এবং লেখক যিনি মূলত জটিল বিষয়গুলিকে সহজ করে বুঝতে সাহায্য করেন।

    এমপোফু এই মুহূর্তে জোহানেসবার্গের ইউনিভার্সিটি অফ দ্য উইটওয়াটার্সর‍্যান্ড-এর মতো নামী প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুটি বেশ জরুরি, তা হল ঔপনিবেশিকতা-উত্তর চিন্তাধারা। অর্থাৎ ডিকলোনিয়ালিটি। তিনি দেখেন, কীভাবে ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতি নতুন পথে এগোতে পারে।

    গত বছরের মে মাসে এই বক্তৃতামালায় বক্তব্য রেখেছিলেন প্রফেসর এমিরেটাস ওয়াল্টার মিগনলো। গবেষণার এই ক্ষেত্রে তিনি এক প্রথিতযশা নাম। তাঁর বক্তব্যের বিষয় ছিল, 'হোয়াট ডাস ইট মিন টু ডিকনোলাইজ'। হাইব্রিড মোডে আয়োজিত এই বক্তৃতায় অংশ নিয়েছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ৭৫ জন অধ্যাপক, গবেষকরা। 

    উত্তর-ঔপনিবেশকতাবাদ,সমাজবিজ্ঞানে ইউরোপ কেন্দ্রিকতা বিষয়ে বিখ্যাত চিন্তক ও গবেষক সৈয়দ ফরিদ আহলাতাস ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজনীতি, বুদ্ধিচর্চায় ঔপনিবেশিকতার প্রভাব ও সমাজবিজ্ঞানের অন্যধারার তত্ত্ব নিয়ে তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য। তাঁর বক্তব্যের বিষয় ছিল, 'ক্রিটিক অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইন নলেজ ক্রিয়েশন: টেকিং ডিকলোনাইজেশন সিরিয়াসলি'।
  • Link to this news (আজকাল)