তবে কত দফায় ভোট হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদলের রাজ্য সফরের পরেই এ বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশ পেতে পারে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৯ মার্চ দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল। তাঁদের নেতৃত্বে থাকবেন জ্ঞানেশ কুমার। দু’দিন রাজ্যে থেকে তাঁরা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন। তার আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), পুলিশ সুপার-সহ নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। দিল্লি থেকে বৈঠকে যোগ দেন এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ উপ-কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
বৈঠকে স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনী যাতে কোনও ধরনের স্থানীয় আতিথেয়তা গ্রহণ না করে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বার নজরদারি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত মিলেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে নজরদারির দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। কোনও সরকারি কর্মচারী টানা চার ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করবেন না। দায়িত্ব শেষ হওয়ার সময় ওই চার ঘণ্টায় কী কী পর্যবেক্ষণ করেছেন, তার লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরবর্তীকালে কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে দায়বদ্ধ করা হতে পারে।
প্রয়োজনে সরাসরি সম্প্রচার ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরও নিয়োগ করা হতে পারে। যেমন অতীতে মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, কমিশনের প্রতিনিধিদলের রাজ্য সফর ও তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। এরপরই প্রকাশিত হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট।