বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার, হাই কোর্টে জরুরি বৈঠক
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ মার্চ ২০২৬
, যিনি
-এর প্রধান বিচারপতি। বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসন, পুলিশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, এত বিপুল সংখ্যক বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি কীভাবে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়েই মূলত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব
এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক
। অন্যদিকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক
। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকদের থাকার ব্যবস্থা, কাজের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি— সবকিছু নিয়েই এই বৈঠকে খুঁটিনাটি আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনী সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের পরিচয় ও নথিপত্র নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে বিশেষ সমীক্ষার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে বহু ভোটার ইতিমধ্যেই মৃত, কেউ স্থায়ীভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন, কেউ দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত, আবার অনেকের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় রয়েছে। এই সব কারণেই সংশ্লিষ্ট নামগুলি নিয়ে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই যাচাইয়ের কাজই বর্তমানে ‘বিবেচনাধীন ভোটার’ নিষ্পত্তির মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকেরা।
তবে এত বিপুল সংখ্যক নামের যাচাই প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৪ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। ফলে এখনও প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য
-এর নির্দেশে ভিন্রাজ্য থেকে বিচারক আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রতিবেশী রাজ্য
এবং
-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারককে এই কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে।
তাঁরা রাজ্যে এসে বিবেচনাধীন ভোটারদের নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজে যোগ দেবেন। প্রশাসনের ধারণা, বিচারকের সংখ্যা বাড়লে নিষ্পত্তির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক বড় অংশের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ভিন্রাজ্য থেকে আসা বিচারকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং কাজের স্থান নির্ধারণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, বিচারকদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তাঁদের কাজের জন্য পৃথক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি মামলার নথি দ্রুত বিচারকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও একই জায়গায়— এত বিপুল সংখ্যক বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা শেষ পর্যন্ত কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আশাবাদী হলেও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, কাজের গতি দ্রুত না বাড়লে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
এই অবস্থায় হাই কোর্ট, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই এখন নির্ভর করছে রাজ্যের বিবেচনাধীন ভোটার তালিকার চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ।