মিগুয়েলকে রুখে অস্কারকে টেক্কা মার্কুয়েজের, গোয়ার বিরুদ্ধে ড্র ইস্টবেঙ্গলের
বর্তমান | ০৬ মার্চ ২০২৬
ইস্টবেঙ্গল- ০ : এফসি গোয়া- ০
মিগুয়েল খেললে ইস্টবেঙ্গল দৌড়ায়। অন্যথায় অস্কারের জারিজুরি শেষ। আইএসএলের সব কোচ এই সারসত্য বুঝে নিয়েছেন। ব্যতিক্রম হলুদ সারথি। তাঁর ভূমিকা গোরুর গাড়ির হেডলাইটের মতো। একবগ্গা স্ট্র্যাটেজিতে কোনও বৈচিত্র নেই। যা হওয়ার তাই হচ্ছে। যুবভারতীতে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে এফসি গোয়াকে রুখে দিল ইস্টবেঙ্গল। এমন ফুটবলের জন্য প্র্যাকটিস দরকার নেই। ৯০ মিনিট খেলা দেখাও দুষ্কর। টিকিটের সঙ্গে বিনামূল্যে স্যারিডন দেওয়া উচিত ম্যানেজমেন্টের। শেষ বাঁশি বাজতেই মাটিতে বসে পড়লেন আনোয়ার, রাকিপরা। ক্ষোভে ফুটছে গ্যালারি। জামশেদপুরের কাছে হারের পর ঘরের মাঠে গোয়ার বিরুদ্ধে ড্র। ১৩ ম্যাচের লিগের শুরুতেই খেতাবি দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল অস্কার ব্রুজোঁ ব্রিগেড। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তিন পয়েন্ট পেত গোয়া।
জামশেদপুরের বিরুদ্ধে যেখানে শেষ করেছিলেন, বৃহস্পতিবার যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন বিপিন-এডমুন্ডরা। মাঝমাঠে ব্লকার নেই। বল না পেয়ে বারবার নীচে নামতে হল এজেজ্জারিকে। আসলে এই ইস্টবেঙ্গল দলের প্রাণভ্রমরা মিগুয়েল। গত ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান মিডিও আটকে যেতেই খেই হারিয়েছিল ব্রুজোঁ ব্রিগেড। বিচক্ষণ মানোলো মার্কুয়েজও তাই মিগুয়েলকে খেলতে দেননি। শুরু থেকেই তাঁর ছায়া সঙ্গী হিসেবে সাহিল তাভোরাকে জুড়ে দেন গোয়া কোচ। ওখানেই সব শেষ। পরিস্থিতি বদলের কোনও চেষ্টাই করলেন না অস্কার। এই পর্বে ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচালেন আনোয়ার আলি। ক্লাবের শীর্ষকর্তার প্রচেষ্টায় গত কয়েক মরশুমে লাল-হলুদের সবচেয়ে সেরা রিক্রুট এই পাঞ্জাব ডিফেন্ডার। অথচ কী করলেন সিংটো? গ্যালারিতে আয়েস করে ম্যাচ দেখা ছাড়া তাঁর ভূমিকা কী? ওড়িশা থেকে জেরিকে সই করানো হল। তাঁকে নিয়ে নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা প্রয়োজন। এরইমধ্যে, প্রথমার্ধে ২৭ মিনিটে বাঁদিক থেকে বিপিনের ঠিকানা লেখা সেন্টার বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো উড়িয়ে দেন এজেজ্জারি। ৩৫ মিনিটে ব্রাইসনের শট কোনওক্রমে রুখে দেন গিল। ৩৯ মিনিটে পরপর দু’টি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ঈশান পাণ্ডিতা। এরপর বাদেই বরিস সিংয়ের শট ক্রসবারে ধাক্কা খায়। ভাগ্য সহায় থাকলে বিরতির আগে গোল পেতে পারত ইস্টবেঙ্গলও। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে রশিদের শট গোয়া গোলরক্ষকের হাত ফসকে বারে ধাক্কা খায়।
বিরতির পর অ্যান্টন ও বিষ্ণুকে নামালেন অস্কার। কিন্তু স্কোয়ার পাসে কি আর ম্যাচ জেতা যায়? এবার অস্কার কোন যুক্তি দেবেন তা তিনিই জানেন! সাউলকে বসিয়ে রাখা হল। কোনও থার্ডম্যান মুভ, বক্সের উপর ওয়াল খেলাও চোখে পড়েনি। শেষের দিকে ইস্টবেঙ্গলের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়। ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত চার নম্বরে রইল ইস্টবেঙ্গল। এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানকে। এভাবে চললে ৩ মে ডার্বির আগেই হয়তো লিগের খেতাবি চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।