আজকাল ওয়েবডেস্ক: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই নাম। বিচারাধীন তালিকায় নাম দেখেই আতঙ্ক। দেশ ছাড়ার ভয়! এসআইআর-এর প্রক্রিয়া ঘিরে ভোটের মুখে বাংলায় এখনও মৃত্যুমিছিল জারি।
এবার ঘটনাস্থল কোচবিহার। বিচারাধীন তালিকায় নাম থাকায়, আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন ৩০ বছরের এক যুবক। তাঁর নাম, সামিনুর মিঞা। তিনি কোচবিহারের ২ নম্বর ব্লকের মধুপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কালাপানি গ্রামের ওই বাসিন্দা কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন।
পরিবারের তরফে জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ছিল না সামিনুরের। এরপর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কীটনাশক খাওয়ার পর তাঁকে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিল। শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহেই এই এক কারণে বাংলার জায়গায় মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের-সহ পরিবারের দশজনের নাম নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার 'বিচারাধীন' থাকায় দেশ ছাড়তে হবে। এই আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ৈর। এমনই অভিযোগ প্রোঢ়ৈর পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ থানার অন্তর্গত গুধিয়া গ্রামে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল শেখ (৭০)। মৃত আব্দুল-সহ তাঁর পরিবারের ১০ জন সদস্যের নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, নামের বানানে কিছু ভুল থাকায় আব্দুল এবং তাঁর পরিবারের ১০ জন সদস্য এসআইআর -এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। সমস্ত নথি জমা করার পরও ওই পরিবারের সকলের নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় রয়ে যায়।
আব্দুল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ২৪৪ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। এসআইআর আতঙ্কে আব্দুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে গুধিয়া বকুলতলা মোড়ে হরিরামপুর-বহরমপুর রাজ্য সড়কের ওপর পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতৃত্ব-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে মুর্শিদাবাদ থানার বিশাল পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলতে নারাজ। ফলে যানবাহনের পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় পুলিশ।
অপর একটি ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের 'বিচারাধীন' তালিকায় নাম থাকায় বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ফরাক্কা থানার বিন্দু গ্রাম লুথার কলোনী এলাকায়। অসুস্থ ওই ব্যক্তির নাম বাবলু হালদার (৬০)। বর্তমানে ওই ব্যক্তি জঙ্গিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচন কমিশনের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য মানুষ এখন আত্মহত্যার চেষ্টার মতো চরম পথ বেঁচে নিতে চাইছেন। কী কারণে এত সংখ্যক লোকের নাম 'বিচারাধীন' রেখে নির্বাচন কমিশন তালিকা ঘোষণা করল তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই যেন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়-আমরা এই দাবিও করছি।"
নির্বাচন কমিশনের বার্তা
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় 'বিচারাধীন' হিসাবে চিহ্নিত সমস্ত ভোটারের নাম মাননীয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিবেচনাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের পরামর্শে এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা কাজ করছেন। এটি স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার যে নির্দিষ্ট দিনে শুনানির পর 'বিচারাধীন' ঘোষিত ভোটারদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইআরও/এইআরও-রা নেননি। আর সেই কারণেই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুসারে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে 'বিচারাধীন' নামগুলি পাঠানো হয়েছে।