• ৬০ লক্ষ মানুষ বিচারাধীন, প্রধানমন্ত্রীও তাই: অভিষেক
    আজকাল | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবারের ধর্নামঞ্চে তিনি পৌঁছলেন সাড়ে ৫টার কিছু পড়ে। মঞ্চে বক্তৃতা রাখা শুরু করলেন শতাব্দী রায়। তাঁর বক্তব্য শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘোষণা, “এবার বক্তব্য দেবেন অভিষেক ব্যানার্জি। ওর নতুন করে পরিচয়ের দরকার নেই।”

    বক্তব্যের শুরুতেই এসআইআর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “সকলকে প্রণাম জানাই। সকল ধর্মের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। অপরিকল্পিত এসআইআর হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি-সিবিআই, সংবাদ মাধ্যম সকলকে চ্যালেঞ্জ। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। খসড়া তালিকা থেকে নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর দেখা গেল সংখ্যাটা প্রায় ৬৩ লক্ষ ৫৪ হাজার। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। মোট প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ। এসআইআর-এর আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে এই সংখ্যাই বলেছিলেন। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না। যতদিন এই ৬০ লক্ষ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে না, বঞ্চিত থাকবে। ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় থাকবে। মনে রাখবেন এই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কেন বিবেচনাধীন হবে না? আমরা দেখা করতে গিয়েছিলাম। জ্ঞানেশ কুমার তর্জনী তুলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অমিত শাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে কমিশন।”

    অভিষেক বলেন,“বিবেচনাধীন নিয়ে আপত্তি নেই। ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিচারাধীন হয়ে থাকে তা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও বিচারাধীন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে লড়তে গিয়েছেন। আর কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেশের মানুষ সওয়াল করতে দেখেননি।”

    এরপরেই সটান বিজেপিকে নিশানা করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “২০২১ সালে কিছু সংগঠন বলেছিল ‘নো ভোট টু বিজেপি’। অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। আমরা এই মঞ্চে বাংলার ১০ কোটি মানুষকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ বার বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। বিজেপিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করুন। যারা বিজেপির হয়ে গলা ফাটাত, তারা যুবশ্রীর ফর্ম পূরণ করছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমায় নিয়ে খুব জ্বালা। আজ অমিত শাহের ভাষণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি।”

    বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে অভিষেকের কটাক্ষ, “এরা এখন রথযাত্রা করছে। আমরা আষাঢ়-শ্রাবণের রথ শুনেছি, আমরা জগন্নাথদেবের রথ শুনেছি, পুরীতে রথ দেখেছি, শ্রীকৃষ্ণ-অর্জুনের রথ শুনেছি, দেবদেবী সারথিদের রথ শুনেছি। কিন্তু ফাল্গুন চৈত্রে রথ প্রথম শুনলান বাঙালি হয়ে। মাটিতে পা পড়ছে না। বিজেপির জমিদাররা চড়বে রথে, আমরা থাকব পথে। রথযাত্রা ছবি দেখছেন। এসআইআর তো ওখানে হয়েছে। বাংলাকে নির্যাতন করতে গিয়ে চায়ের দোকানে বা মাটি কাটার সময় যে পাঁচ-সাতজন লোক দাঁড়াতো, তাঁরাও সভায় নেই। এরা নাকি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে। আমি বলছি, চ্যালেঞ্জ ৫০-এর নীচে নামাব।” 

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। মোদির একটা সরকার দিয়ে দেখাক। যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।”

    সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি, বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, পাঁচ বছরে একটি বাড়ি দিয়েছে প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। কেন্দ্রীয় সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের চ্যালেঞ্জও করেন অভিষেক।

    তিনি আরও বলেন, “তোমার কাছে ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, বিচার বিভাগের একাংশ, তোমার কাছে রাজ্যপাল, তার পরেও বাংলা দখল করতে পারছ না। বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ক্যাটেরার থালা, ঠাকুরমশায় থালা নিয়ে দাঁড়়িয়ে আছে... খালি পাত্র আর পাত্রী নেই, কী করে বিয়ে হবে? এদের কাছে সব, কিন্তু তা-ও কিচ্ছু নেই। তৃণমূলের কিচ্ছু নেই। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন আর বাংলার ১০ কোটি মানুষ রয়েছেন। বাকিটা তৃণমূলকর্মীরা মাঠে বুঝে নেবেন।”
  • Link to this news (আজকাল)