• রাষ্ট্রপতির মন্তব্যে ধর্না মঞ্চ থেকে পালটা তোপ মমতার
    আজকাল | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না দ্বিতীয় দিনে পৌঁছতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার সকালে ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হয়ে নাম কাটা পড়া ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “অধিকার লুট করছে, ভোটাধিকার লুট করছে। এই লুটেরাদের ক্ষমা রয়েছে? নোটবন্দি, ভোটবন্দি, গ্যাসবন্দি, সংবিধানবন্দি—সব চলছে। এর বিরুদ্ধে লড়তে পারে একমাত্র বাংলা।”

    তিনি দাবি করেন, যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশের কাছেই বৈধ নথি রয়েছে। এমনকি আধার কার্ডও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে আধার নথি হতে পারে। অথচ নির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশ মানছে না। ভোটারদের নাম কেন কাটা হচ্ছে, তার জবাব দিতে হবে।”

    মমতা আরও সতর্ক করেন, এই ঘটনা শুধু কয়েকজনের সমস্যা নয়, ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আজ যাঁদের নাম কাটা হয়েছে তাঁদের জন্যই শুধু লড়াই করছি না। আজ আপনার নাম তালিকায় থাকলেও ভোটের দিন গিয়ে দেখবেন নাম নেই। এরপর আসবে এনআরসি, তারপর বঙ্গভঙ্গের চেষ্টা।”

    ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ সংগঠন নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, “আমরা তিনটি প্রজন্ম তৈরি করেছি। নতুন প্রজন্ম আরও শক্তিশালীভাবে সামনে এসেছে। আগামী ৫০ বছর তারাই কাজ করবে।” এদিকে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, হয়তো মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর রাগ করেছেন বলেই তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। হয়তো তিনি আমার ওপর রাগ করেছেন। তবে এতে আমার কোনও রাগ নেই।” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তার জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও রাজনীতি করানো হচ্ছে। বিজেপির এজেন্ডা নিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম, কিন্তু আপনি বিজেপির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।”

    মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠানটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না এবং সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “যদি বছরে একবার আসেন আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাব। কিন্তু যদি বছরে ৫০ বার আসেন, তাহলে কি আমাদের সব কাজ ছেড়ে তাঁদের পিছনে ঘুরতে হবে?” মমতার কথায়, ‘‘আপনি কবে আসবেন, কবে যাবেন, সেই ইনফর্মেশন (তথ্য) আমরা পাই। সেই মতো চেষ্টা করি প্রস্তুতি নেওয়ার। কিন্তু রেগুলার যদি... কোনও দিন ‘এ’ আসছেন, কোনও দিন ‘বি’, কোনও দিন ‘সি’ আসেন, আমাদের কী কাজকর্ম নেই নাকি! সারা দিন আপনাদের লেজুড় হয়ে ঘুরে বেড়াব? না কি লাটাই নিয়ে ঘুরতে হবে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বছরে এক বার আসুন না, আপনাকে ‘রিসিভ’ করব। বছরে যদি পঞ্চাশ বার আসেন, আমার টাইম আছে এত? আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের জন্য ধর্নায় আছি। আপনার মিটিংয়ে যাব কী করে? কোনটা আমার প্রায়োরিটি? ইউ আর প্রায়োরিটি অফ বিজেপি। মাই প্রায়োরিটি ইজ পাবলিক। কোন সংগঠন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আমি-ই জানি না।’’

    এই প্রসঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। মণিপুর, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, তখন কেন রাষ্ট্রপতি প্রতিবাদ করেননি।

    এরপরই আদিবাসী উন্নয়নে রাজ্য সরকারে উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে মমতার প্রশ্ন, "আপনি কীভাবে বলেন যে এখানে আদিবাসীদের উন্নয়নে কোনও কাজ হয়নি? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় কী কাজ হয়েছে? কাজের কথা আমাদের বলবেন না। আদিবাসীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পাশে আছে। এমনকী অলচিকি ভাষাকে সম্মান দিয়েছি আমরা। এখানে ডব্লুবিসিএস পরীক্ষাও দেওয়া যায় অলচিকি ভাষায়। কটা রাজ্যে হয়েছে?” বিজেপিকে তোপ দেগে মমতার আরও কড়া বার্তা,” দেশের ১ নং নাগরিক, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান, শ্রদ্ধার মানুষ, আমরা তাঁকে সম্মান করি। বিজেপি তাঁকেও এখানে রাজনীতি করতে পাঠিয়ে দিল!” 

    ধর্নামঞ্চ থেকেই এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক-যুবতীদের ভাতা দেওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, শনিবার থেকেই আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

     
  • Link to this news (আজকাল)