• রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তৃণমূলের পাশে কংগ্রেস-DMK?
    আজকাল | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার শাসক দলের সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যখন এসআইআর নিয়ে ধরনায়, তখনই রাজ্যে এসেছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তথ্য,‘ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠন শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল সম্মেলনের আয়োজন করে। সেই সম্মেলনেই প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানেই রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পর শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।




    শনি-সন্ধেয় ওই তরজা বাড়ে,  বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর। মমতা ব্যানার্জি যেমন সাফ জানান, কেন তিনি উপস্থিত হতে পারেননি ওই অনুষ্ঠানে, সঙ্গেই রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের জবাব দেন একেবারে পয়েন্ট ধরে। অন্যদিকে তৃণমূল সরকারকে একযোগে নিশানা করেন মোদি-শাহও।

    এই পরিস্থিতিতে, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতেই চোখে পড়েছে বিরোধী ঐক্যও। শনিবার রাতেই, কংগ্রেস এবং ডিএমকে'র নেতা নেত্রীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। অলকা লাম্বা লিখেছেন, 'এখনও পর্যন্ত, সারেন্ডার জি, নির্বাচনে জয়লাভের জন্য, আপনি আপনার বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন, আয়কর বিভাগ, সিবিআই, ইডি ব্যবহার করে আসছেন। যখন বাংলায় জয়লাভের জন্য এই সব কোনও কিছুকেই পর্যাপ্ত বলে মনে হয়নি, তখন আপনি রাষ্ট্রপতি মুর্মুকেই ভোট ময়দানে নামিয়ে দিয়েছেন।  @rashtrapatibhvn বিজেপি সরকারের নির্দেশে বাংলার রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করে এবং রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা ঝুঁকিতে ফেলে ভালো করেননি।'




    অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের একটি অংশ শেয়ার করে, ডিএমকে'র মুখপাত্র সারাভনন আন্নাদুরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'ভারতের রাষ্ট্রপতি কখন থেকে বাংলার বিজেপির একজন প্রতিনিধি হয়ে উঠলেন? খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে, তার প্রমাণ এটি।'

    এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, শনিবার শিলিগুড়ির কাছে অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজন নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি আরও বড় জায়গায় হলে ভালো হত, যাতে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের আরও বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারতেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো মমতা ব্যানার্জি তাঁর উপর রাগ করেছেন বলেই আসেননি।

    রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন এই ঘটনায় ব্যথিত। রাষ্ট্রপতি নিজেও জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর প্রকাশিত বেদনা গোটা দেশের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।”

    প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্য প্রশাসনই দায়ী।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও রাজ্য সরকার যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত।

     
  • Link to this news (আজকাল)