আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফরে অব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিযোগের পাল্টা বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ধর্নামঞ্চ থেকেই এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মমতা।
তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচি রাজ্য সরকার আয়োজন করেনি, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে হয়েছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে ওই বেসরকারি সংস্থার পক্ষে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এসে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতা নেই।
কিন্তু তাঁদের না জানিয়েই আয়োজন করা হয় এবং সেটা রাজ্য সরকারের কর্মসূচি ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে বেসরকারি সংস্থার পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঠিকভাবে আয়োজন করা কঠিন হতে পারে। তবু রাষ্ট্রপতি নিজের সিদ্ধান্তে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তাই এটি তাঁদেরই বিশেষ অধিকার, আমাদের নয়।’
অব্যবস্থা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘এর জবাব দেবে আয়োজক সংস্থাই। আয়োজকেরা রাজ্য সরকারের কাউকে জানাননি এবং রাজ্য সরকার কোনওভাবেই এতে যুক্ত ছিল না।
শৌচাগার সংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি এয়ারপোর্ট অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে। গ্রিন রুমটিও আয়োজকেরাই তৈরি করেছিলেন। এয়ারপোর্টের বিষয়ে রাজ্যের কোনও হাত নেই, পুরোটাই কেন্দ্র দেখে। কয়েক দিন আগে সেখানেই বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।’
রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না করার অভিযোগেরও জবাব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘অনুষ্ঠানে শহরের মেয়র উপস্থিত ছিলেন। আমি নিজে তখন ধরনায় ছিলাম, তাই সেখানে যেতে পারিনি। ধরনা শুরু হওয়ার আগে আমি এই কর্মসূচির কথা জানতাম না। আমি এখানে মানুষের অধিকারের লড়াই লড়ছি, তাদের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই।’
প্রসঙ্গত, শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, হয়তো মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর রাগ করেছেন বলেই তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। হয়তো তিনি আমার ওপর রাগ করেছেন। তবে এতে আমার কোনও রাগ নেই।’
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তার জবাব দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও রাজনীতি করানো হচ্ছে। বিজেপির এজেন্ডা নিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম, কিন্তু আপনি বিজেপির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠানটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না এবং সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, ‘যদি বছরে একবার আসেন আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাব। কিন্তু যদি বছরে ৫০ বার আসেন, তাহলে কি আমাদের সব কাজ ছেড়ে তাঁদের পিছনে ঘুরতে হবে?’
মমতার কথায়, ‘আপনি কবে আসবেন, কবে যাবেন, সেই ইনফর্মেশন (তথ্য) আমরা পাই। সেই মতো চেষ্টা করি প্রস্তুতি নেওয়ার। কিন্তু রেগুলার যদি... কোনও দিন ‘এ’ আসছেন, কোনও দিন ‘বি’, কোনও দিন ‘সি’ আসেন, আমাদের কী কাজকর্ম নেই নাকি! সারা দিন আপনাদের লেজুড় হয়ে ঘুরে বেড়াব? না কি লাটাই নিয়ে ঘুরতে হবে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য?’
তিনি আরও বলেন, ‘বছরে এক বার আসুন না, আপনাকে ‘রিসিভ’ করব। বছরে যদি পঞ্চাশ বার আসেন, আমার টাইম আছে এত? আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের জন্য ধর্নায় আছি। আপনার মিটিংয়ে যাব কী করে? কোনটা আমার প্রায়োরিটি? ইউ আর প্রায়োরিটি অফ বিজেপি। মাই প্রায়োরিটি ইজ পাবলিক। কোন সংগঠন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আমি-ই জানি না।’