এসআইআর মোড় বদল, রাজ্যের রাজনীতি রাষ্ট্রপতির অসম্মান ঘিরে উত্তপ্ত
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ মার্চ ২০২৬
এই বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই দলই সামনে আনছে নিজেদের আদিবাসী নেতৃত্বকে। তৃণমূলের তরফে ময়দানে নেমেছেন বিরবাহা হাঁসদা, প্রকাশ চিক বরাইক এবং বুলুচিক বরাইক। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে সক্রিয় হয়েছেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম এই প্রসঙ্গে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের পরেই বিজেপির তরফে প্রতিক্রিয়া আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে। পরে একে একে মাঠে নামেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার রাত থেকেই বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সমাজমাধ্যমে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেন। সেই তালিকায় যোগ দেন কার্যনির্বাহী সভাপতি নিতিন নবীন এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও।
বিজেপির দাবি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে রাজ্য সরকারের আচরণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অপমান নয়, গোটা আদিবাসী সমাজের অসম্মান। এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপির জনজাতি মোর্চাকেও সক্রিয় করা হয়েছে। রবিবার ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম ও হুগলির বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসে। বিজেপির দাবি, এই প্রতিবাদ আদিবাসী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় সংগঠনই পরিকল্পিত ভাবে এই আন্দোলন সংগঠিত করেছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে খগেন মুর্মু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করে দেশের প্রায় ১২ কোটি আদিবাসী মানুষের সম্মানহানি করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে হলেও বিজেপি সেটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চ থেকে শুরু করে রায়দিঘিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চ— সর্বত্রই তৃণমূল পুরনো একটি ছবি তুলে ধরে দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। পাশাপাশি রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্কের ফলে রাজ্যের রাজনীতির ফোকাস এখন আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের দিকে সরে গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। তাই এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ফলে আপাতত এসআইআর বা রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি আড়ালে চলে গিয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।
গত চার মাস ধরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এসআইআর ইস্যু। কিন্তু গত শনিবার থেকে সেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র হঠাৎই ঘুরে গিয়েছে অন্য দিকে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে ‘অসম্মান’ করা হয়েছে— এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির পদকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বিজেপি।
এই বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই দলই সামনে আনছে নিজেদের আদিবাসী নেতৃত্বকে। তৃণমূলের তরফে ময়দানে নেমেছেন বিরবাহা হাঁসদা, প্রকাশ চিক বরাইক এবং বুলুচিক বরাইক। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে সক্রিয় হয়েছেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম এই প্রসঙ্গে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের পরেই বিজেপির তরফে প্রতিক্রিয়া আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে। পরে একে একে মাঠে নামেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার রাত থেকেই বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সমাজমাধ্যমে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেন। সেই তালিকায় যোগ দেন কার্যনির্বাহী সভাপতি নিতিন নবীন এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও।
বিজেপির দাবি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে রাজ্য সরকারের আচরণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অপমান নয়, গোটা আদিবাসী সমাজের অসম্মান। এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপির জনজাতি মোর্চাকেও সক্রিয় করা হয়েছে। রবিবার ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম ও হুগলির বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসে। বিজেপির দাবি, এই প্রতিবাদ আদিবাসী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় সংগঠনই পরিকল্পিত ভাবে এই আন্দোলন সংগঠিত করেছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে খগেন মুর্মু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করে দেশের প্রায় ১২ কোটি আদিবাসী মানুষের সম্মানহানি করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে হলেও বিজেপি সেটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চ থেকে শুরু করে রায়দিঘিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চ— সর্বত্রই তৃণমূল পুরনো একটি ছবি তুলে ধরে দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। পাশাপাশি রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্কের ফলে রাজ্যের রাজনীতির ফোকাস এখন আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের দিকে সরে গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। তাই এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ফলে আপাতত এসআইআর বা রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি আড়ালে চলে গিয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।