বিভাস ভট্টাচার্য: সামনে ঝুলছে বেলুনের মালা। ঠাঁই ঠাঁই শব্দে এয়ারগান-এর গুলি ছোঁড়া হচ্ছে আর ফটাস ফটাস করে ফাটছে। দোলের দিন বিকেলে মেলায় গিয়ে সেই বেলুন ফাটাতে গিয়েই হল বিপত্তি। পিছন দিক আসা ধাক্কা খেয়ে গুলি বেলুনে না লেগে সোজা ঢুকে গেল হাতে। আর ঢুকে গিয়েই সরতে সরতে একেবারে হাড়ে গিয়ে আটকে রইল। সোমবার যা অস্ত্রোপচার করে বের করে আনলেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর বলেন, "আমাদের লক্ষ্যই থাকে প্রত্যেকটি রোগীকে যথাযথ পরিষেবা দেওয়া। কারণ রোগীর সমস্যা দূর করাটাই আসল।"
ঘটনা প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে হাসপাতালের সার্জন ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার বলেন, "রোগী উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির বাসিন্দা ১৪ বছরের এক কিশোর। দোলের দিন মেলায় গিয়ে বেলুন ফাটাতে গিয়ে এই বিপত্তি তৈরি হয়। নলের যেখান দিয়ে গুলি বের হয় সেখানে বাঁহাতের তালু রেখে ট্রিগারে আঙুল রেখে দাঁড়িয়েছিল। মেলার ভিড়ে আচমকা পিছন থেকে আসা কারুর ধাক্কায় কোনওভাবে ট্রিগারে চাপ পড়ে যাওয়ায় গুলি ছিটকে বেরিয়ে হাতের তালুতে ঢুকে যায়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গুলি মাংস ছিঁড়ে একেবারে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে সোজা হাড়ে গিয়ে আটকে যায়।"
প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের পরামর্শে রোগীকে নিয়ে তার পরিজনরা এসে পৌঁছন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানে রোগীকে পরীক্ষা করেই চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু গুলি যেহেতু হাড়ে আটকে ছিল সেজন্য খুঁজে বের করতে চিকিৎসকদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। শেষপর্যন্ত অপারেশন থিয়েটারেই আবার পোর্টেবল এক্সরে মেশিন আনিয়ে ছবি তোলা হয় এবং গুলি চিহ্নিত করা হয়। সার্জন ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার বলেন, "প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় শেষপর্যন্ত গুলি অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়। কারণ, গুলি যেখানে ঢুকে ছিল সেই জায়গা থেকে অন্যত্র সরে গিয়েছিল। রোগী এখন সুস্থ আছে।"
অস্ত্রোপচারে অ্যানেস্থেটিস্ট ছিলেন ডাঃ ব্রজেন্দ্রনাথ দাস, ডাঃ সরফরাজ রহমান এবং ডাঃ হিমালয় দত্ত। ছিলেন নার্স সুশোভনা বেরা এবং পিউ দাস।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথায়, বেসরকারি ক্ষেত্রে এই অস্ত্রোপচার রোগীর পক্ষে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ত। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে হওয়ার জন্য রোগীর কোনও পয়সা খরচ হয়নি।