লোকই নেই, ভেস্তে গেল বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সভা!
আজকাল | ১০ মার্চ ২০২৬
মিল্টন সেন, হুগলি: সভাস্থলে হাতেগোনা কয়েকজন। দাড়ালো না বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ। চলে গেলেন বিজেপি নেতৃত্ব। হতাশ হলেন উপস্থিত কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক। সভা করার যাবতীয় প্রস্তুতি সারা হয়েছিল আগেই। সোমবার দেরিতে হলেও বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা পৌঁছয় পোলবার রাজহাটে।
এলাকা ফাঁকা। লোকজনের অভাবে ভেস্তে গেল সভা। হতাশ বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার হুগলি সাংগঠনিক জেলায় এদিন ছিল তৃতীয় দিন। সকালে পান্ডুয়া থেকে যাত্রা শুরু হয়।মহানাদ হয়ে পোলবার রাজহাট মোরে আসে। তবে সেটা ছিল নির্ধারিত সময়ের প্রায় কয়েক ঘন্টা পরে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য সভা হবে, সকাল থেকে বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন রাজহাটে। সেখানে ছোটো একটা মঞ্চও করা হয়েছিল। বিজেপির পতাকায় মুরে ফেলা হয়েছিল সংলগ্ন এলাকা।
আগে থেকেই ওই এলাকায় লাগানো ছিল তৃনমূল কংগ্রেসের পতাকাও। মঞ্চ দেখে বোঝার উপায় ছিল না কোন দলের কর্মসূচী। বিজেপির কর্মসূচীতে উল্লেখ করা হয়েছিল মিনি সভা হবে রাজহাটে। উপস্থিত থাকার কথা পুরুলিয়ার সাংসদ বিজেপি নেতা জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, প্রাক্তন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী প্রমুখদের। সেই লক্ষ্যে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মাইক বাজছিল সকাল থেকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো পরিবর্তন যাত্রার গাড়ি যখন এসে পৌঁছালো হাতে গোনা কয়েকজন বিজেপি কর্মি মঞ্চের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এলাকা ফাঁকা দেখে পরিবর্তন যাত্রার গাড়ি না দাঁড়িয়ে সোজা বেরিয়ে যায়। গাড়িতে থাকা জেলা বিজেপি নেতাদের উদ্যেশ্যে কয়েকজন মহিলা কর্মি ফুল ছোড়েন। শাঁখ বাজান। তাঁরা ভেবেছিলেন বিজেপি নেতারা গাড়ি থেকে নেমে সভা করবেন।কিন্তু দেখা গেল, গাড়ি না দাঁড়িয়ে সিঙ্গুরের উদ্দেশে রওনা দিল।
হতাশ হলেন কর্মীরা। পোলবার মহিলা বিজেপি কর্মি পূর্ণিমা মুর্মু জানান, তিনি সকাল ৯ টায় চলে এসেছিলেন। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকে অধৈর্য হয়ে সবাই চলে যান। তাঁদের বলা হয়েছিল সাড়ে দশটা এগারটার মধ্যে পরিবর্তন যাত্রা ঢুকে যাবে। কিন্তু তার অনেক পরে এসেছে। তিনি আশা করেছিলেন সভা হবে। কিন্তু হলনা।
স্থানীয় বিজেপির এক নেতা বলেন, তিনি রথকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমস্ত বিজেপি কর্মীরা রাজহাট মোড়ে একটা মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় সেই সভা হল না। রথটাকে আটকে দিল অন্য জায়গায় বিজেপির কর্মীরা অধৈর্য হয়ে যেত। তাই তিনি সেটা করেননি। এই প্রসঙ্গে রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের উপপ্রধান সেখ সাল্লাম আলি বলেন, 'ওখানে সারা বছরই তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা বাঁধা থাকে। বিজেপি এখানে সাংগঠনিকভাবে সেরকম পোক্ত নয়। মানুষের পাশে কাজ থাকতে হবে। কাজ করতে হবে, তবে তো মানুষ যাবে। যে কাজটা তৃণমূল সারা বছর করে থাকে। বর্তমানে সরকারি প্রকল্প মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। রাস্তা ঘেরা নিয়ে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল।প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটা মিটে যায়। ওদের কর্মসূচি লোকের অভাবে হয়নি। কেউ কাউকে বাধা দেয়নি।'