আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মতলায় ধরনা চলছে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর। শুক্রের পর সোম, মমতার ধরনা মঞ্চে অভিষেক। সোমবার সন্ধেয় নিজের বক্তব্যে একদিকে যেমন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একহাত নিলেন অভিষেক, একহাত নিয়ে খোলা চ্যালেঞ্জ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে। 'ভাইপো' সম্বোধনের পালটা জবাব দিতে গিয়ে অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে 'পরিবারতন্ত্র' তত্ত্ব। কর্মী-সমর্থকদের বোঝালেন, যদি বাংলার মানুষের হয়ে লড়াই করছে কোনও রাজনৈতিক দল, সেটা একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস।
মঞ্চেই অমিত শাহ কে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক বলেন, 'আপনাদের কোনওদিন ক্ষমতা হয়নি, একটা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে যোগ্য উত্তর দিতে। আপনি বলেছেন তৃণমূল পরিবারকেন্দ্রীক দল। কেন্দ্র সরকার আপনার, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ট আপনারা। ক্ষমতা থাকলে, একটা বিল নিয়ে আসুন, যে বিলে স্পষ্টত লেখা থাকবে, এক পরিবার থেকে একজন রাজনীতি করতে পারবে, আমি সেই বিলে ভোট দিয়ে রাজনীতি ছাড়ব, আপনার ক্ষমতা থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।'
নিজের ভোট জেতার প্রসঙ্গও এদিন শোনা যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের গলায়। সাফ জানান, 'আমার অগ্নিপরীক্ষা আমি দিয়েছি।'২০১৪ সাল, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র, প্রথম ভোটেই ৭১ হাজার মার্জিনে জেতা থেকে তৃতীয় দফায় ৭ লক্ষ ১১ হাজার ভোট নিয়ে জেতা, উল্লেখ করেন তথ্য তুলে। জয় শাহ-প্রসঙ্গেও তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। বলেন, 'ক্রিকেটের ক জানে না, সি জানে না, সে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট! কী অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছেন আপনি?'
অমিত শাহ রাজ্যে এসে যে যে কথা বলেছিলেন, এদিন ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে যেন, সেগুলিরই উত্তর দিলেন অভিষেক। শাহ বলেন, মমতা ব্যানার্জি সৎ হলে, বলুন তাঁর দলের যে যে নেতারা জেল খেটেছেন, তাঁদের টিকিট দেবেন না। জবাবে অভিষেক মনে করালেন সবরমতী জেলে শাহের কারাবাসের কথা। বললেন, 'আপনি আপনার পদত্যাগপত্র যেদিন জমা দেবেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরাও কথা দিচ্ছি, প্রমাণ করে দেব, আপনি যে কথা বলেছেন, আমরা বাস্তবায়িত করতে পারি।'
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, উপস্থিত হয়েছেন শহরে। কলকাতা বিমান বন্দরে নেমে হাত নেড়েছেন, সেই মুহূর্ত ভাইরাল, চর্চিত বঙ্গ রাজনীতিতে। অভিষেক বললেন, 'একটা লোক, তাঁর এতটুকু অপরাধবোধ বা বিবেকবোধ নেই, যাঁর তুঘলকি সিদ্ধান্ত এবং অপকর্ম, অনাচার এবং অত্র্যাচারের কারনে প্রায় ২০০ জন বঙ্গবাসী মারা গিয়েছেন, আত্মঘাতী হয়েছেন, মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা আন চেয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন, যেন বিশ্বজয় করে ফিরেছেন। '
সঙ্গেই বলেন, 'আমি কিছুটা অবাকই হয়েছি। এদের মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই। যাঁদের অঙ্গুলি হেলনে এরা কাজ করে, এবং দেশের সংবিধানকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে, ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করেছে, সেই সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করে যাঁরা দেশের গণতন্ত্রকে ভূলন্ঠিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবাসীকে জোট বাঁধতে হবে।'
জ্ঞানেশ কুমারের হোটেল ইস্যু নিয়েও জোর চর্চা শহরে। অভিষেক বিঁধলেন সেই ইস্যুতেও। বললেন, 'কলকাতায় ছোট বড় মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি হোটেল রয়েছে। অমিত শাহ থেকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এসে যে হোটেলে ওঠে, সেই কই হোতেল, ঘরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ঊঠেছেন। তা কি কাকতলীয়?'
যদিও এই বক্তব্যে, অভিষেক কেব কটাক্ষ করেই থামেননি। একেবারে বুস্টার ডোজ দিলেন যেন উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের। বলেন, 'আগামী লড়াই এদের শূন্য করার লড়াই। কেবল তৃণমূলকে চতুর্থবার জেতানোর নয়, এটা ভোট টু ইলেক্ট নয়, এটা ভোট টু পানিশ, ভোট টু রিজেক্ট, প্রতিবাদের ভোট, প্রতিরোধের ভোট, শাস্তি দেওয়ার ভোট।'