বাংলায় এক বা দুই দফায় হতে পারে ভোট, ইঙ্গিত কমিশনের
আজকাল | ১০ মার্চ ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতায় বৈঠকে উপস্থিত ছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনরা সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এদিনের বৈঠকে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। এদিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি উপস্থিত ছিল আম আদমি পার্টি (আপ), কংগ্রেস, সিপিআইএম, বিজেপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো দলগুলিও। সকলের মতামত শুনেছে কমিশনের বেঞ্চ। কমিশনের দাবি, বাংলায় এক বা দুই দফায় নির্বাচন চেয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে তৃণমূল কোনও মত জানায়নি।
সোমবারের বৈঠক শেষে কমিশনের দাবি, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রশংসা করেছে। কমিশনের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থাও ব্যক্ত করেছে। কমিশন আরও জানিয়েছে, রাজ্যে হিংসা রোধ করে এবং ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে দলগুলি। এছাড়াও, ভোটের সময় বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র, বেআইনি অর্থের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি প্রতিটি ভোটারের সুরক্ষা প্রদান এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা রোধে বিপুল সংখ্যক সিএপিএফ মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিশন সূত্রে দাবি, বাংলায় কত দফায় নির্বাচন চায় তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু এদিনের বৈঠকে জানায়নি তৃণমূল। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্থাৎ ২০২১ সালে ১২ বা ১৪ দফায় নির্বাচন চেয়েছিল বিজেপি। শেষ পর্যন্ত আট দফায় হয়। এদিন বিজেপি কমিশনকে আর্জি জানিয়েছে কম দফায় নির্বাচন হোক। কমিশন সূত্রে খবর, বাকি বিরোধী দলগুলি একই আর্জি জানিয়েছে।
কমিশন দাবি করেছে, রাজনৈতিক দলগুলি বাংলায় এক বা দুই দফায় নির্বাচন আয়োজন করার আর্জি জানিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, বাংলায় কত দফায় নির্বাচন হওয়া উচিৎ তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু এদিনের বৈঠকে জানায়নি তৃণমূল। ২০২১ সালে ১২ বা ১৪ দফায় নির্বাচন চেয়েছিল বিজেপি। শেষ পর্যন্ত আট দফায় হয়। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন বিজেপি কমিশনকে আর্জি জানিয়েছে কম দফায় নির্বাচন হোক। কমিশন সূত্রে খবর, বাকি বিরোধী দলগুলি একই আর্জি জানিয়েছে।
বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার রাজনৈতিক দলগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারতে নির্বাচন আইন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কোনও খামতি রাখবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, কমিশন ভোটার বা নির্বাচন কর্মীদের উপর হিংসা এবং ভয় দেখানো হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হিংসামুক্ত করার জন্য পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এদিনের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার দাবি করেছেন যে, রাজ্যে এসআইআর সবচেয়ে স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এসআইআরের উদ্দেশ্য হল নিশ্চিত করা যে কোনও যোগ্য ভোটার বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
কমিশন নির্বাচন পরিকল্পনা, ইভিএম ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ, নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা, ভোটার সচেতনতা এবং নির্বাচনী প্রচারের প্রতিটি দিক নিয়ে এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির প্রধান বা নোডাল অফিসার, আইজি, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিইও এবং এসএসপি বা এসপিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। কমিশন সকল সংস্থাগুলির সব প্রধান বা নোডাল অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, কমিশন সমস্ত ডিইওদের ভোটারদের সুবিধার্থে সমস্ত ভোটকেন্দ্রে র্যাম্প, হুইলচেয়ার এবং পানীয় জল-সহ ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।