আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় ফের আগুন। এবার আগুন লাগল শহরের নামী কনফেকশনরারি সংস্থা মিও আমোরের কারখানায়। সোমবার রাতে কারখানাটিতে আগুন লেগে যায়। দক্ষিণ কলকাতার রুবি হাসপাতালের পিছনে অবস্থিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মিও আমোরের কারখানাটিতে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন উপস্থিত রয়েছে। আগুন নেভানোর কাজ চলছে। জানুয়ারি মাসের নামী মোমো সংস্থা ওয়াও মোমোর নরেন্দ্রপুরের কারখানায় আগুন লেগে যায়। মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। এর পর ফের অগ্নিকাণ্ড শহরে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কীভাবে আগুন লাগল মিও আমোরের কারখানায় তা জানা যায়নি এখনও। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাশাপাশি থাকা দু’টি গুদাম, একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থা ওয়াও মোমোর এবং অন্যটি একটি ডেকোরেটরস কোম্পানির। আগুন নেভানোর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৭ জনের দেহাংশ। এতটাই ভয়াবহ ছিল আগুনের তীব্রতা যে, অধিকাংশ দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আগুন এতটা ভয়াবহ ছিল, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের ৭২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম মনোরঞ্জন সিট, রাজা চক্রবর্তী এবং গঙ্গাধর দাস। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোরঞ্জন মোমো সংস্থার ম্যানেজার ও রাজা ডেপুটি ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। গঙ্গাধর ডেকরেটর্স সংস্থার মালিক।
অগ্নিকাণ্ডের পর মৃত কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ওই মোমো সংস্থা জানিয়েছিল, প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারগুলিকে আজীবন মাসিক বেতনের সমপরিমাণ সহায়তা এবং মৃত কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ বহন করার কথাও ঘোষণা করেছিল তারা। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও মৃত ব্যক্তিদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।