কোনোদিনই রাজনীতির মঞ্চে অবতীর্ণ হতে চাই নি : ঋতুপর্ণা
এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
অন্য সময় প্রাইম: শুনছিলাম আপনি অসুস্থ, কী হয়েছে?
ঋতুপর্ণা: হ্যাঁ, এই সিজ়ন চেঞ্জের জন্য ফিভার। মাথাও ভীষণ যন্ত্রণা করছে। তার মাঝেই ছবির প্রচার নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে। আমি অসুস্থ হলেও অ্যাকটিভ থাকার চেষ্টা করি। তাতেই আমি ভালো থাকি।
অন্য সময় প্রাইম: এই ছবিতে আপনার চরিত্রটির জন্য রাজি হওয়ার কারণ কী?
ঋতুপর্ণা: গল্পটার মধ্যে একটা অদ্ভুত স্ট্রেন্থ রয়েছে। যেই চরিত্রটা আমার জন্য ধার্য ছিল, অর্থাৎ মৌসুমী সেন, আমার মনে হয়েছিল এই চরিত্রটার একটা অদ্ভুত পাওয়ার আছে। সে অনেক কিছু পারে। কিন্তু দিনের শেষে ভীষণ অসহায়। চরিত্রের এই ভ্যারিয়েশনটা আমায় ভীষণ ভাবে টেনেছিল।
অন্য সময় প্রাইম: আপনি নিজেও একজন সফল নারী। কখনও নিজেকে হেল্পলেস মনে হয়েছে?
ঋতুপর্ণা: বহুবার, সবথেকে বেশি তখন নিজেকে হেল্পলেস লাগে যখন মনের ভিতর চলতে থাকা দ্বন্দ্ব মিটিয়ে উঠতে পারি না। সেই সময়ে কখনও–কখনও আমার কাকুর সাহায্য নিই। যিনি একজন মনোবিদ। বিশেষত মা চলে যাওয়ার পর যখন গোটা পৃথিবীতে বাবা-মায়ের ছায়াটা সম্পূর্ণ সরে গেল, তখন থেকেই মাঝে–মাঝে নিজেকে ভীষণ শিকড়হীন বলে মনে হয়। মাঝেমধ্যে আমার হাজব্যান্ড সঞ্জয়কেও (চক্রবর্তী) এই দ্বন্দ্বের কথা জানাই। তবে ওর তো একটাই সলিউশন, ‘সব ছেড়ে সিঙ্গাপুর চলে এসো’। তবে একটা কথা বলব, মনে হয় শিল্পীদের মনের দ্বন্দ্ব বাকিদের থেকে একটু বেশি। কারণ, অনেক রকম চরিত্রের কনফিক্ট তাঁদের সঙ্গে থেকে যায়।
অন্য সময় প্রাইম: পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যালান্স করতে কতটা বেগ পেতে হয়?
ঋতুপর্ণা: যুদ্ধটা তো চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোনও কোনওদিন মনে হয়, সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে চাই। এই অব্দি পৌঁছতে আমায় অনেক কিছু করতে হয়েছে। অনেক ঘাম–রক্ত জড়িয়ে আছে। তাই ময়দান ছেড়ে যেতে আমি পারব না। পাশাপাশি সংসারটাকেও আমি ভীষণ ভালোবাসি। হয়তো তেমন ভাবে সময় দিয়ে ওঠা হয় না, তবু একটা কথা বলতে চাই, আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন যে আমি গোটা সংসারটাকে বেঁধে–বেঁধে রাখতে পারি। আমার শাশুড়ি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তেমন ভাবে কাউকেই চিনতে পারেন না। কিন্তু তবু সেদিন আমায় দেখে বললেন, ‘তুমি আমায় ছেড়ে যেও না কিন্তু’। দিনের শেষে ওটাই আমার প্রাপ্তি। সকলে বলে আমি সফল, সেদিন এই কথাটা আরও বেশি করে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করল যে আমি সংসারেও সফল।
অন্য সময় প্রাইম: বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কিছু নিয়ে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। স্ক্রিনিং কমিটি গঠনের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, বিষয়টাকে কী ভাবে দেখছেন?
ঋতুপর্ণা: ইন্ডাস্ট্রি বলে নয়, যে কোনও সংসারেই দ্বিমত থাকবে। আর এটা একটা বৃহত্তর সংসার–ই বটে। তাই এটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের নিয়ে আলোচনা হয়, তাই সকলে জানতে পারেন। আর স্ক্রিনিং কমিটির কথা বলতে হলে অবশ্যই বলব, এটা একটা দুর্দান্ত পদক্ষেপ। ওঁরা চেষ্টা করছেন যাতে ডিস্ট্রিবিউশনটা সঠিক ভাবে হয়। শুধু সকলের উদ্দেশ্যে আমার একটাই অনুরোধ, যাঁরা নতুন কাজ করছেন অর্থাৎ নতুন প্রযোজক এবং পরিচালক তাঁরাও যাতে ঠিক মতো হল পান, সেদিকটা মাথায় রাখলেই আসল উদ্দেশ্য সফল হবে। বাণিজ্যিক ভাবে একটা ছবি সফল হওয়ার পিছনে সকলের অবদান থাকে।
অন্য সময় প্রাইম: কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে যোগদান আপনাকে কতটা অবাক করেছিল?
ঋতুপর্ণা: শুরুতে শুনে খানিকটা অবাক হয়েছি বটে তবে কোয়েলকে আমি দীর্ঘদিন চিনি। ও ঠান্ডা মাথার বিচক্ষণ মানুষ। ও যখন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন ডেডিকেটেডলি সেটা পালনও করবে বলে আমি আশা করি। ওর আগামী জার্নির জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল।
অন্য সময় প্রাইম: এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পরও নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখলেন কি খুব সচেতন ভাবেই?
ঋতুপর্ণা: আমি নিজের শিল্পীসত্তাকেই এনজয় করি। কোনও দিনই রাজনীতির মঞ্চে অবতীর্ণ হতে চাইনি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি যতটুকু আমার ক্ষমতা। এত বছরে মানুষ আমায় যে ভাবে ভালোবাসলেন তেমন ভাবেই বাসুক না, ক্ষতি কি?