এই সময়, তমলুক: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র সৈকত দিঘা (Digha) ও মন্দারমণির (Mandarmani) পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে (Tourist Spot) অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালনায় নতুন নিয়ম চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। এই লক্ষ্যে কয়েক দিন আগেই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালনা করে এমন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। বৈঠকে সমস্ত সংস্থাকে সরকারি নিয়ম কঠোর ভাবে মেনে চলার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
ছুটির মরশুম হোক কিংবা সপ্তাহান্তের শনি–রবি, সমুদ্র সৈকতের টানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান দিঘা, মন্দারমণিতে। সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার রাইড—যেমন প্যারাগ্লাইডিং, স্পিডবোট এবং বিচ বাইক রাইড। যদিও এই সব অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ঘিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। তার কারণ, কয়েক বছর আগে মন্দারমণিতে প্যারাগ্লাইডিং করার সময় ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের এক পর্যটকের।
ঘটনার পর প্যারাগ্লাইডিং বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী কালে সমুদ্রের মাঝামাঝি এলাকা থেকে ফের প্যারাগ্লাইডিং চালু করা হলেও অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে না এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে। সেই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও প্রশাসনের কাছে জমা পড়ে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে সমুদ্রবক্ষে ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার তরফে স্পিড বোট, যন্ত্রচালিত রাবার বোটের ব্যবস্থা। কয়েক বছর আগে সমুদ্রে স্নান করার সময় কয়েক জন পর্যটক যন্ত্রচালিত রাবার বোটের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন।
এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাইড পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকেই এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিঘায় তিনটি এবং মন্দারমণিতে দুটি—মোট পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে প্যারাগ্লাইডিং, স্পিডবোট ও অন্যান্য রাইড পরিচালনা করা যাবে। সমস্ত সংস্থাকে রোটেশন পদ্ধতিতে এই রাইড পরিচালনা করতে হবে। যাতে প্রত্যেক সংস্থা সমান সুযোগ পায় এবং পর্যটকদেরও নিরাপদে পরিষেবা দেওয়া যায়।
পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার, পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট প্রদান, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে রাইড পরিচালনা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোর ভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ ঠিকমতো পালন হচ্ছে কি না তা দেখতে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডল বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাতে তাঁরা সুষ্ঠুভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে সবাইকে সরকারি নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে রাইড পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।’ প্রশাসনের আশা, এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং সমুদ্রতটের পর্যটন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে।