• শুটিং ফ্লোরে 'অপদস্ত' টলিপাড়ার জুনিয়র আর্টিস্টরা! খবর পেয়ে কী পদক্ষেপ করলেন স্বরূপ বিশ্বাস?
    আজকাল | ১০ মার্চ ২০২৬
  • 'জুনিয়র আর্টিস্ট', শব্দটার মধ্যেই একটা 'আন্ডারটোন হিউমিলিয়েশন' আছে। জুনিয়র আর্টিস্টরা সিরিয়াল, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ নানা প্রজেক্টে বিভিন্ন দৃশ্যে মূলত ক্রাউড সিনে দর্শক অর্থাৎ টকি আর্টিস্ট হিসেবে থাকেন। যখন শুটিং দৃশ্যে তাঁদের ডায়লগ থাকে, তখন তাঁরা টকি আর্টিস্ট। টালিগঞ্জে যে জুনিয়র আর্টিস্টরা কাজ করেন, প্রোডাকশনের চোখের সামনে বা আড়ালে কাজের জায়গায় সবদিক থেকে তাঁরা বঞ্চনার শিকার হন। সম্প্রতি বিভিন্ন শুটিং স্টুডিও ঘুরে দেখতে গিয়ে, জুনিয়র আর্টিস্টদের কাজের অসুবিধার দিকগুলো নজরে আসে, ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস এন্ড ওয়ার্কাস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের।

    তিনি লক্ষ করেছিলেন শুটিংয়ের জুনিয়র আর্টিস্টদের সবাইকে একটি মাত্র মেকআপ রুমে বসানো হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের আলাদা ব্যবস্থা নেই। সংশ্লিষ্ট স্টুডিও মালিকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির আশু নিষ্পত্তি করেন স্বরূপ বিশ্বাস।মানবিক ভাবনার শুরু হয় সেদিন থেকেই।

    স্বরূপ বিশ্বাসের কথায়, "জুনিয়র আর্টিস্টরাও শুটিংয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে। কোনও সিনে জুনিয়র আর্টিস্টের রিঅ্যাকশন, তার সংলাপ বলা এসব দৃশ্যটির গুণগত মানকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁদের কাজের পদ্ধতি যদি অসুবিধাজনক হয়, কাজ শেষে সাম্মানিক টাকা পাওয়া নিয়ে টালবাহানা পোহাতে হয়, তাহলে তাঁরা কাজটা মন দিয়ে করবেন কী করে?"

    সেই মানবিক ভাবনার থেকে স্বরূপ বিশ্বাস ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র এন্ড কো আর্টিস্ট গিল্ডের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিংয়ে করেন। বুঝতে পারেন জুনিয়র আর্টিস্টদের কাজের জায়গাটি অসংগঠিত। তাঁদের কোনও নির্দিষ্ট খাওয়ার জায়গা পর্যন্ত নেই। শৌচালয় ব্যবহারের তেমন সুবিধাও নেই। ঠিকঠাক মেকআপের ব্যবস্থা নেই। এমনকী কাজের শেষে প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জায়গাও অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত। জুনিয়র আর্টিস্টদের এই বঞ্চনার রাশ টানতে, গত ৮ মার্চ টালিগঞ্জ মুভিটোন স্টুডিওতে জুনিয়র ও কো আর্টিস্ট গিল্ডের ব্যবস্থাপনায়, ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাসের উদ্যোগে এক সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উক্ত গিল্ডের কার্যনির্বাহী সমিতির সকল সদস্য, সকল জুনিয়র আর্টিস্ট কো-অর্ডিনেটর, সর্বস্তরের জুনিয়র আর্টিস্ট মিলে হাজারের কাছাকাছি জনসমাগম হয়েছিল। সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসূত্র নিয়ে কথা হয়।

    সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, টকি আর্টিস্ট বা নন টকি আর্টিস্ট সবার একটা নুন্যতম পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হবে, তার নিচে কেউ কাজ করবেন না। যদি আউটডোর শুটিং হয়, অথবা অনেক রাতে প্যাকআপ হয়, তাহলে তাঁদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করতে হবে। মেকআপ, পোশাক পরিবর্তন, খাবার, শৌচালয়ের সুব্যবস্থা তাঁদের জন্য প্রোডাকশনকে করতে হবে।

    বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি অসংগঠিত ক্ষেত্রকে, সুসংগঠিত করতে ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাসের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা জানিয়েছেন অনেকে। স্বরূপ বিশ্বাসের ভাবনায়, জুনিয়র আর্টিস্টরা যে 'একস্ট্রা' নয়, বাংলা সিনেমা, টেলিভিশন, ওটিটির তাঁরাও যে একটা অংশ, সেই অনুভূতি, সেই নিশ্চয়তা তাঁদের মধ্যেও যেন তৈরি হয়। সিনে সমালোচকদের মতে, ফেডারেশন ও সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের হাত ধরে বাংলা সিনেমা শিল্পে অসংগঠিত শ্রমের, সংগঠিত বুনিয়াদের একটা দিশা তৈরি হতে চলেছে।
  • Link to this news (আজকাল)