আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দফায় দফায় বৈঠক। নজর ছিল মঙ্গলবার সকালের দিকে। এসআইআর নিয়ে, ভোট নিয়ে কোন বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, সেদিকে নজর ছিল সব পক্ষের। তবে মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগেই, মূখ্য নির্বাচন কমিশনারের অন্য এক মন্তব্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় বঙ্গ রাজনীতিতে। রাজ্যের শাসক দল বলছে, 'জ্ঞানেশের জ্ঞান নাই!'
ঠিক কী হয়েছে?
বক্তব্যের একেবারে প্রথমাংশেই জ্ঞানেশ কুমার বলেন, 'আমাদের ন্যাশনাল সং, জনগণমন অধিনায়ক জয় হে, রচনা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেই, রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমাদের ন্যাশন্যাল সং বন্দে মা তরম-ও রচনা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জি, তিনিও এই রাজ্যের বাসিন্দা। আমরা গর্বিত, দেশের ন্যাশনাল এন্থেম এনং ন্যাশনাল সং, দুটোই এসেছে এই মাটি থেকে।'
তাঁর এই বক্তব্যের একেবারে শুরুর অংশটুকু নিয়েই বিতর্ক। জন গণ মন-কে ন্যাশন্যাল এন্থেম-এর বদলে ন্যাশনাল সং ্বলে উল্লেখ করে ফেলেন জ্ঞানেশ কুমার। ওই অংশটুকুকেই হাতিয়ার করেছে রাজ্যের শাসক দল। বলা হচ্ছে, জাতীয় সঙ্গীত আর জাতীয় গীতের মধ্যে কোনও ফারাক বুঝতেই পারেননি তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট একের পর এক।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু লিখেছেন, 'আমাদের দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদাবানদের একজন, আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমার জি জানেন না, কোনটি আমাদের জাতীয় গীত এবং কোনটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত! আজ, তিনি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ' কে আমাদের জাতীয় গীত হিসাবে বর্ণনা করেছেন।'
ওই মুহূর্তটুকু শেয়ার করে, তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য লিখেছেন, 'জ্ঞানেশের জ্ঞান নাই! বলছে National Song নাকি জনগণমন!! হায়রে... তাহলে বন্দেমাতরম কী? নেতারা বন্দেমাতরমের রচয়িতার নাম ঠিকঠাক বলতে পারেনা, চামচারা বন্দে মাতরমের স্থান গুলিয়ে ফেলে! যেমন ঝাড়, তেমন বাঁশ..'
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও একটি পোস্ট করা হয়েছে। তাতে শুরুতেই লেখা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি।
পোস্টে লেখা হয়েছে, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটারকে 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' বলে মন্তব্য করে তাদের নাম মুছে ফেলতে ব্যস্ত, অভিযোগ করা হচ্ছে @BJP4Indiaএর নির্দেশে। অথচ একই ব্যক্তি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গীতের মধ্যে পার্থক্যও করতে পারেন না।
সিইসির জন্য একটি দ্রুত তথ্য যাচাই:
জাতীয় সঙ্গীত = "জন গণ মন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এবং ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত।
জাতীয় গীত = "বন্দে মাতরম" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত।
যারা বাংলা, এর মানুষ, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না তাদের বক্তৃতা দেওয়ার আগে দু'বার ভাবা উচিত।'