আবাসন প্রস্তুতের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা শহরে!
আজকাল | ১২ মার্চ ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোটি টাকার প্রতারণা ও তোলাবাজির অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত প্রস্তুতকারক। বউবাজার থানার মামলা নং–৩২ (তারিখ: ১৬.০২.২০২৬) অনুযায়ী, ৬৫ বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের একটি সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার ছক।তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রথমে একটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করে অভিযোগকারীকে ওই সম্পত্তির উন্নয়নের কাজে যুক্ত করে। এরপর ভাড়াটিয়াদের পুনর্বাসন ও কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন অনুমোদন পেতে অভিযোগকারীকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে হয়।
এতেই শেষ নয়। অভিযুক্ত প্রস্তুতকারকের কথায় বিশ্বাস করে অভিযোগকারীর এক সহযোগী ওই সম্পত্তির বাকি অংশীদারিত্বের জন্য ২ কোটি টাকা প্রদান করেন। কিন্তু পরে তদন্তে প্রকাশ পায়, ওই লেনদেনের নিরাপত্তা হিসেবে দেখানো মালিকানার নথিগুলি ছিল সম্পূর্ণ জাল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পরই অভিযুক্ত নির্মাণকাজে বাধা দিতে শুরু করে এবং উল্টে আরও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপরেই বাঁধে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও গোলযোগ।
এরপর অভিযোগকারী বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হলে সেখানেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর অভিযুক্ত একতরফাভাবে পুরো চুক্তিই বাতিল করে দেয় বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি বুঝে অভিযোগকারী থানার দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। যে অফিসের ঠিকানা অভিযুক্ত দিয়েছিল, সেটি বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। শুধু তাই নয়, এর আগেও একই কৌশলে M/s S.P. Conclave Private Limited এবং M/s Assure Realcon LLP-এর সঙ্গে চুক্তি করে পরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করার পর অভিযুক্ত বিষ্ণু কুমার আগরওয়াল-কে সল্টলেক এলাকা থেকে্রাগ্রেপ্তার করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রতারণা চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনায় শহরের রিয়েল এস্টেট মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রতারণার ঘটনার কারণে পুলিশ জানিয়েছে, বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে নথিপত্র ও মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।