'যে বাংলাকে ভালবাসে...', নতুন রাজ্যপালকে যা বললেন মমতা
আজ তক | ১২ মার্চ ২০২৬
বাংলার ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নায়ারণ রবি। বৃহস্পতিবার সকালে লোকভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। হিন্দিতে শপথবাক্য পাঠ করেন নয়া রাজ্যপাল। শপথ শেষেই তাঁকে বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার উৎসবের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক কারবারিদের একাংশের মতে, এদিন মমতার সৌজন্যের বার্তার মধ্যেই ছিল পরোক্ষ রাজনীতির ছোঁয়াও।
কী কথাবার্তা হল মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের?
প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে কিংবা নয়া রাজ্যপাল আরএন রবিকে বাংলায় পাঠানোর নেপথ্যে কেন্দ্রের মতলব দাবি করে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন লোকভবনে সৌজন্যের আবহ দেখা গেল প্রথম থেকেই।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানের শেষে কাছে ডেকে নেন আরএন রবির সহধর্মিনীকে। পাশে দাঁড় করিয়ে, তাঁর কাঁধে হাত রেখে ছবিও তোলেন। বিশ্ববাংলার উত্তরীয় পরিয়ে দেন সস্ত্রীক রাজ্যপালকে।
মমতা রাজ্যপালকে বলেন, 'বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার উৎসব দেখবেন।' এরপরই তাঁর সংযোজন, 'বাংলার মানুষ তাঁকেই ভালোবাসে যিনি বাংলাকে ভালোবাসেন।' সঙ্গে সঙ্গে আরএন রবির জবাব, 'হ্যাঁ, আমি জানি, বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।' মমতার এই বক্তব্য আপাত ভাবে সৌজন্যমূলক হলেও তিনি যে আরএন রবিকে রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন, তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশই।
নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল সাড়ে ১১টায় শপথগ্রহণ শুরু হয়। শপথগ্রহণের আগে এবং পরে জাতীয় গান বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন বাজানো হয়। শপথে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
উল্লেখ্য, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আরএন রবি। এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে ছিলেন। সেখানে স্টালিন সরকারের সঙ্গে তাঁর বারবার সংঘাত চর্চায় এসেছে। তাঁকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিন। ফলে পশ্চিমবঙ্গে নয়া রাজ্যপালের জার্নি কেমন হয়, সেদিকে নজর সকলের।