পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আধুনিক রেল ভ্রমণের নতুন ভাবনা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ মার্চ ২০২৬
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য গড় বার্ষিক রেল বাজেট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে ২০২৬-২৭ সালে সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪,২০৫ কোটি টাকা। এই বাড়তি বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেলপথ নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং রেলের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের বহু রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ১০১টি স্টেশন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আনাড়া, বরাভূম, হলদিয়া, জয়চণ্ডী পাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষপাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, পানাগড়, সিউড়ি এবং তমলুক— এই কয়েকটি স্টেশনের উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক প্রতীক্ষালয়, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা, উন্নত আলোকসজ্জা, লিফট, চলন্ত সিঁড়ি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এখন যাত্রীদের আরও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
আধুনিক ট্রেন পরিষেবাও দ্রুত বাড়ছে। রাজ্য থেকে বন্দে ভারত ও অমৃত ভারতসহ একাধিক দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে সংযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। এতে ভ্রমণের সময় কমছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ১,৭১২ কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে শতাধিক উড়ালপথ ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেল উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিচ্ছে।