• ATM বিপত্তি, 'হেল্পলাইন' নম্বরে ফোন করতেই উধাও টাকা
    আজকাল | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এটিএম জালিয়াতির নয়া ফাঁদে পড়ে ফের বড় অঙ্কের টাকা খোয়ালেন এক গৃহবধূ। টাকা তুলতে গিয়ে এটিএম মেশিনে কার্ড আটকে যাওয়া এবং তারপর জালিয়াতির শিকার হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সালকিয়া এলাকায়। অপরিচিত নম্বরে ফোন করার মাসুল হিসেবে খোওয়া গেল ৪০ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব হওয়ায় আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই গৃহবধূ। 

    জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালকিয়ার বাসিন্দা দেবলীনা মুখোপাধ্যায় তাঁর স্বামীর ডেবিট কার্ড নিয়ে স্থানীয় একটি এটিএম-এ ব্যালেন্স চেক করতে যান। কার্ডটি মেশিনে ঢোকানোর পরেই সেটি ভেতরে আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও কার্ডটি বের করতে না পেরে তিনি সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীদের জানান। কিন্তু কর্মীরাও কার্ডটি উদ্ধারে ব্যর্থ হন।

    ঠিক সেই সময়েই এটিএম কাউন্টারের গায়ে মার্কার দিয়ে লেখা একটি 'হেল্পলাইন' নম্বর দেবলীনা দেবীর নজরে আসে। সেখানে ফোন করলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে নানা নির্দেশ দিতে থাকে। সেই নির্দেশ মেনে কাজ করলেও কার্ডটি বের হয়নি। উল্টে ফোনের ওপার থেকে তাঁকে জানানো হয়, দুই ঘণ্টা পর এসে কার্ডটি নিয়ে যেতে।

    উপায় না থাকায় কার্ডটি মেশিনে রেখেই বাড়ি ফিরে যান দেবলীনাদেবী। কিন্তু বাড়ি পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর স্বামীর ফোনে দফায় দফায় টাকা তোলার মেসেজ আসতে শুরু করে। দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। দ্রুত ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জালিয়াতি চক্রটি আগে থেকেই এটিএম মেশিনে কোনো কারচুপি করে রেখেছিল এবং হেল্পলাইনের নাম করে দেওয়া দেওয়ালের নম্বরটি ছিল আসলে প্রতারকদের।

    ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবলীনা মুখোপাধ্যায় বলেন, "মেশিনে কার্ড আটকে যাওয়ার পর হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে যা যা বলা হয়েছিল, আমি তাই করেছিলাম। কিন্তু কিছু পরে শুনি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সাফ হয়ে গেছে। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি, তাঁরা টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের আমানত ব্যাঙ্কেও কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।"

    ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই মালিপাঁচঘরা থানা এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে পুলিশ আগেও জানিয়েছিল, এটিএম-এর ভেতরে দেওয়ালে লেখা কোনো অপরিচিত নম্বরে ফোন না করে ব্যাঙ্কের অফিশিয়াল টোল-ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করাই শ্রেয়।

     
  • Link to this news (আজকাল)